০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

চুয়েট উপাচার্য মুক্ত

৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। এ সময় উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

চুয়েট সংবাদদাতা

উপাচার্যকে মুক্ত করার সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা অন্য ব্যক্তিরাও এ সময় মুক্ত হন।

যেভাবে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এতে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁদের বের করে আনা হয়।

উপাচার্য পরিবর্তনের পর থেকেই আন্দোলন

চুয়েটে বর্তমান সংকটের সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও যুক্ত হন। শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

শিক্ষক সমিতিরও কর্মবিরতি অব্যাহত

বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার মধ্যে শিক্ষক সমিতিও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এদিকে, উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করার ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

সংকট নিরসনে বিভিন্ন মহল থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান আসেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের মুক্ত করা হয়।

চুয়েটের অচলাবস্থা কাটবে কি?

উপাচার্যকে মুক্ত করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের সমাধান হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং শিক্ষক সমিতির কর্মসূচি পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে।

এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে উপাচার্যকে মুক্ত করার পর আন্দোলন প্রত্যাহার, ক্লাস-পরীক্ষা চালু কিংবা প্রশাসনিক সংকট নিরসনে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চুয়েট উপাচার্য মুক্ত

৩০ ঘণ্টা পর মুক্ত চুয়েট উপাচার্য, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান

আপডেট সময় : ১২:২৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস থেকে তাঁকে বের করে আনা হয়। এ সময় উপাচার্যের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

চুয়েট সংবাদদাতা

উপাচার্যকে মুক্ত করার সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও সিভিল সার্জন উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্যের সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা অন্য ব্যক্তিরাও এ সময় মুক্ত হন।

যেভাবে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন তিনি।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

এতে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তিরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তাঁদের বের করে আনা হয়।

উপাচার্য পরিবর্তনের পর থেকেই আন্দোলন

চুয়েটে বর্তমান সংকটের সূত্রপাত গত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও যুক্ত হন। শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

শিক্ষক সমিতিরও কর্মবিরতি অব্যাহত

বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থার মধ্যে শিক্ষক সমিতিও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এতে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।

এদিকে, উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ করার ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

সংকট নিরসনে বিভিন্ন মহল থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান আসেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের উপস্থিতিতে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের মুক্ত করা হয়।

চুয়েটের অচলাবস্থা কাটবে কি?

উপাচার্যকে মুক্ত করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটের সমাধান হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং শিক্ষক সমিতির কর্মসূচি পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে রেখেছে।

এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে উপাচার্যকে মুক্ত করার পর আন্দোলন প্রত্যাহার, ক্লাস-পরীক্ষা চালু কিংবা প্রশাসনিক সংকট নিরসনে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।