হাইকোর্টের রায়ে পুরনো ল্যান্ড সার্ভে মামলার নিষ্পত্তির পথ খুলল
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ল্যান্ড সার্ভে সংক্রান্ত পুরনো মামলাগুলোর নিষ্পত্তির পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর না থাকায় ১৯ বছর ধরে আটকে থাকা একটি ফার্স্ট আপিল নিষ্পত্তি করে আদালত এ নির্দেশনা দেন।
হাইকোর্ট জানিয়েছেন, এখন থেকে যেসব মামলাকারী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না পেয়ে হাইকোর্টে এসেছিলেন, তারা সংশ্লিষ্ট জেলার ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে প্রতিকার চাইতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বিলম্ব মওকুফের আবেদন বিবেচনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খান ও বিচারপতি উর্মী রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ২৩ আগস্ট প্রকাশিত হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ঢাকার ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আরএস/বিএস খতিয়ান ও রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে মামলা করেন এ কে এম ফজলুল হকসহ অন্যরা। ২০০৭ সালের ৩ জুলাই ওই মামলা খারিজ হলে তারা আপিল করতে চাইলেও তখন ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর ছিল না।
ফলে বাধ্য হয়ে ২০০৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তারা হাইকোর্টে ফার্স্ট আপিল দায়ের করেন। তবে আইন অনুযায়ী ওই আপিলের সঠিক ফোরাম ছিল ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল।
আদালত রায়ে বলেন, স্টেট একুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্টের ১৪৫বি ধারার অধীনে হাইকোর্ট ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে না। তাই হাইকোর্টে করা আপিলটি শুনানিযোগ্য নয়।
তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আপিলকারীরা সংশ্লিষ্ট ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালে নতুন করে আপিল করতে পারবেন। রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে আপিল করলে ট্রাইব্যুনাল বিলম্ব মওকুফের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে আইন করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান করা হলেও দীর্ঘদিন আপিল ট্রাইব্যুনাল কার্যকর ছিল না। ২০২৩ সালে আইন সংশোধন ও সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রতিটি জেলার জেলা জজদের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব দেওয়ার পর এ ব্যবস্থা কার্যকর হয়।





















