স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, প্রথম শ্রেণিতে লটারি ও দ্বিতীয় থেকে নবমে পরীক্ষা
- আপডেট সময় : ১২:৩১:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭০ বার পড়া হয়েছে
দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস।
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তিতে ডিজিটাল লটারি
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারি আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
ভর্তির আবেদন করার সময় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দের তালিকায় রাখতে পারবে। তবে কোনো শিক্ষার্থী ডাবল শিফটের একটি বিদ্যালয়ের উভয় শিফট পছন্দ করলে তা দুটি বিদ্যালয়ে পছন্দক্রম দেওয়ার সমতুল্য হিসেবে গণ্য হবে।
নীতিমালায় আবেদনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীর একাধিক আবেদন জমা পড়লে তার সব আবেদন বাতিল করা হবে। তাই আবেদন করার সময় অভিভাবকদের তথ্য ও পছন্দক্রম যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
লটারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের নির্দেশ
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে যাবতীয় কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে সম্পন্ন করবে মাউশি। এ সময় ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। এর ফলে নির্বাচিত কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পরবর্তী শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দেওয়া যাবে।
নির্ধারিত সময়ে ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে সুযোগ
নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি কমিটি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে লটারিতে নির্বাচিত কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা কার্যকর করা হবে। এ ক্ষেত্রে তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ক্রমানুসারে ভর্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ পদ্ধতিতে শূন্য আসন পূরণের পাশাপাশি ভর্তির প্রক্রিয়ায় নিয়মতান্ত্রিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা
নীতিমালায় প্রথম শ্রেণির জন্য লটারি পদ্ধতি রাখা হলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এসব শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে।
তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষার তারিখ, আবেদন শুরুর সময় এবং পরীক্ষার বিস্তারিত সূচি এখানে উল্লেখ করা হয়নি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তাই আবেদনকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করা এবং পরবর্তী নির্দেশনার প্রতি নজর রাখা জরুরি।


























