০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ গ্রামের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়। পরে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির পথে রয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার পর বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৩৩৬ ফ্লাইটে নিহত সাত শ্রমিকের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের কাছে প্রিয়জনের মরদেহ ফিরলেও পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয় সাতজনের পরিচয়

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। দুর্ঘটনার পর মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এ প্রক্রিয়া শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি সরকার মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বাকি সাত শ্রমিকের মরদেহ দেশে আনা হয়।

নওগাঁ ও নাটোরে শোকের মাতম

নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামানিক, মাসিদুল সরদার সজিব ও সাগর আলী। এ ছাড়া শাহীনের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়।

অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত সাব্বির হোসেন ও মোহাম্মদ শামিমের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়।

নওগাঁ থেকে যমুনা টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধির তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ দেশে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই নিহতদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করতে শুরু করেন। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঋণ করে সৌদি গিয়েছিলেন শাহীন

নিহত শাহীনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার পরিবার নওগাঁ শহরের পার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং স্বচ্ছল জীবনের আশায় ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শাহীন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তার স্বজনরা। কীভাবে সংসারের খরচ চালাবেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে জীবন কাটবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহত অন্য শ্রমিকদের পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থাও প্রায় একই রকম। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও তাদের অনেকের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

গত ৯ আগস্ট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পর গত ২৭ আগস্ট প্রথম ধাপে নিহত নয় বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছিল। তবে বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার দ্বিতীয় ধাপে বাকি সাতজনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হলো।

এ ঘটনায় মোট ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুই ধাপে সবার মরদেহ দেশে ফেরত আসায় স্বজনরা অন্তত প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে অনেক পরিবারকেই এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ গ্রামের পথে

আপডেট সময় : ০২:৩৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়। পরে সেগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির পথে রয়েছে।

শনিবার সকাল ৯টার পর বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৩৩৬ ফ্লাইটে নিহত সাত শ্রমিকের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের কাছে প্রিয়জনের মরদেহ ফিরলেও পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত হয় সাতজনের পরিচয়

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। দুর্ঘটনার পর মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এ প্রক্রিয়া শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর সৌদি সরকার মরদেহগুলো বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বাকি সাত শ্রমিকের মরদেহ দেশে আনা হয়।

নওগাঁ ও নাটোরে শোকের মাতম

নিহতদের মধ্যে চারজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামানিক, মাসিদুল সরদার সজিব ও সাগর আলী। এ ছাড়া শাহীনের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়।

অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় নিহত সাব্বির হোসেন ও মোহাম্মদ শামিমের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায়।

নওগাঁ থেকে যমুনা টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধির তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ দেশে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সকাল থেকেই নিহতদের বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করতে শুরু করেন। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঋণ করে সৌদি গিয়েছিলেন শাহীন

নিহত শাহীনকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তার পরিবার নওগাঁ শহরের পার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।

পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং স্বচ্ছল জীবনের আশায় ঋণ করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শাহীন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান তিনি।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তার স্বজনরা। কীভাবে সংসারের খরচ চালাবেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে জীবন কাটবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহত অন্য শ্রমিকদের পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থাও প্রায় একই রকম। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গেলেও তাদের অনেকের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

গত ৯ আগস্ট কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পর গত ২৭ আগস্ট প্রথম ধাপে নিহত নয় বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছিল। তবে বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার দ্বিতীয় ধাপে বাকি সাতজনের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হলো।

এ ঘটনায় মোট ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুই ধাপে সবার মরদেহ দেশে ফেরত আসায় স্বজনরা অন্তত প্রিয়জনদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে অনেক পরিবারকেই এখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।