রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুলের স্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মাকছুদা ইসলামকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ সময় মামলা-সংক্রান্ত ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই আদালত সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেন।
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে নির্যাতনের অভিযোগ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় থাকতেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকছুদা মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মোবাইল ফোনে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধারের সময় মরিয়মের বিছানার ওপর একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ।


























