১৩১ বারের মতো পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
- আপডেট সময় : ১২:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। এ নিয়ে আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ১৩১ বারের মতো পিছিয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। ফলে আদালত নতুন করে সময় দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় আটজন আসামি
সাগর-রুনি হত্যা মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন। অন্য আসামিরা হলেন—বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আসামিদের একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের কেউই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। দীর্ঘ সময় পার হলেও হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।
২০১২ সালে বাসায় খুন হন সাগর-রুনি
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।
পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে বাসা থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপপরিদর্শক মামলাটির তদন্ত করেন। ঘটনার চার দিন পর তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি ডিবি।
পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে দেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় র্যাব মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তদন্তে গঠন করা হয় উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স
মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা ও অগ্রগতি না থাকায় গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশনা দেন।
এরপর ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
তবে নতুন তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো আদালতে প্রতিবেদন জমা পড়েনি। ফলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এই হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।




















