রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই অসুস্থ প্রতিষ্ঠান
- আপডেট সময় : ০২:২৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / ১৬৮৭ বার পড়া হয়েছে
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীরা পাচ্ছেন না ডাক্তার, নেই বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থাও। চিকিৎসক সংকট, অনুপস্থিতি আর অব্যবস্থাপনায় ধুঁকছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। চিকিৎসক ছাড়াও নেই প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল– নেই স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধাদি। অথচ প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসার আশায় ছুটে আসেন এখানে। কিন্তু হাসপাতালটি যেন এখন নিজেই এক অসুস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
১৯৭০ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৯ সালে কাগজে-কলমে এটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও বাস্তবে আজও সেই সুবিধা মেলেনি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় হাসপাতালটি এখন নিজেই যেন এক অসুস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪১টি। অথচ কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। তাদের মধ্যেও একজন অন্যত্র কর্মরত, একজন ছুটিতে এবং একজন যোগদান করলেও হাসপাতালে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশু, মেডিসিন, সার্জারি, অ্যানেস্থেসিয়া ও জরুরি বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ পানি সংকট। এক মাসের বেশি সময় ধরে বিকল হয়ে আছে গভীর নলকূপের পাম্প। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ভর্তি রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মচারীরা।
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৮৩ জন রোগী। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার অনেক বেশি রোগী নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালাতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। জানালেন এ কর্মকর্তা।
দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান সিভিল সার্জন।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। শুধু রাজাপুর নয়, ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও কাঠালিয়া উপজেলার হাজারো মানুষ নির্ভর করেন এই হাসপাতালের ওপর।


























