যুক্তরাজ্যে আকাশপথে বড় বিপর্যয়, বাতিল হাজারের বেশি ফ্লাইট
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশটির বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ সমস্যায় হিথ্রোসহ বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি বহু ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
ন্যাটসের সিস্টেমে প্রযুক্তিগত ত্রুটি
ব্রিটেনের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেন। ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ না হলেও সমস্যার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণে বড় ধরনের বিলম্ব তৈরি হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অন্তত এক হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ভোগান্তিতে যাত্রীরা
প্রযুক্তিগত সমস্যার প্রভাব পড়ে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, কেএলএম ও লুফথানসাসহ বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থার ওপর। লন্ডনের বাইরের বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমও এতে ব্যাহত হয়। এডিনবার্গ, লুটন, বার্মিংহাম, অ্যাবারডিন ও গ্লাসগো বিমানবন্দরেও ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের খবর পাওয়া যায়।
ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য বলছে, হিথ্রো বিমানবন্দরে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩৬৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। গ্যাটউইকে প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে। এটি বিমানবন্দরটির মোট ফ্লাইটের প্রায় ৩১ শতাংশ।
ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ন্যাটস জানায়, ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। তবে ত্রুটি ঠিক হওয়ার পরও ১৫টি ব্রিটিশ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইট বিলম্ব অব্যাহত ছিল। বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের জট কমাতে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনগুলো কাজ করছে।
ন্যাটসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আকাশসীমা খোলা রয়েছে এবং ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত আছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত বড় এয়ারলাইন
বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ৯৬টি, ইজিজেটের ৯২টি, কেএলএমের ২০টি, লুফথানসার ১২টি এবং সুইসের ১১টি ফ্লাইট ছিল। এ ছাড়া এয়ার ইন্ডিয়ার যুক্তরাজ্যগামী ও যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া একাধিক ফ্লাইটেও প্রভাব পড়ে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, ন্যাটসের সমস্যাটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে কর্মীরা কাজ করছেন।
এর আগে ২০২৪ সালেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাটি দেশটির বিমান চলাচল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।





















