মালয়েশিয়াকে হারিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ইতিহাস
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
অনূর্ধ্ব-২০ নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে দারুণ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চীনের হুলুনবুয়ির সিটিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এই জয় পায় বাংলাদেশ।
জুনিয়র এশিয়া কাপের এবারের আসরে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। গ্রুপ পর্বে একের পর এক বড় জয় তুলে নেয় দলটি। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মালয়েশিয়াকেও হারিয়েছে তারা।
এই জয়ের ফলে শুধু টুর্নামেন্টের পঞ্চম স্থানই নিশ্চিত হয়নি, বরং আগের আসরের সাফল্যকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। নারী জুনিয়র হকিতে এটিকে দেশের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোনো দল
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সীমানায় একাধিকবার চাপ তৈরি করে তারা। তবে মালয়েশিয়ার রক্ষণও ছিল বেশ দৃঢ়।
প্রথমার্ধে দুই দলই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফিনিশিংয়ের অভাবে কোনো দলই গোল আদায় করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর ম্যাচের গতি আরও বাড়ে। বাংলাদেশ নিজেদের আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে। একপর্যায়ে সেই চাপ থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
পেনাল্টি স্ট্রোকে এগিয়ে বাংলাদেশ
তৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় বাংলাদেশ। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করেননি অধিনায়ক সারিকা সাফা রিমন। তাঁর নিখুঁত শটে এগিয়ে যায় লাল-সবুজের দল।
গোল পাওয়ার পর বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে মালয়েশিয়া। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বেশ সতর্ক থাকায় সহজে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।
শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান বাড়ান কনা
ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে আবারও আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করে দ্বিতীয় গোলের সন্ধান করতে থাকে তারা। সেই প্রচেষ্টার ফলও আসে দ্রুত।
শেষ কোয়ার্টারে কনা বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন। তাঁর গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। ম্যাচের শেষ দিকে জয় তখন অনেকটাই নিশ্চিত মনে হচ্ছিল বাংলাদেশের।
তবে হাল ছাড়েনি মালয়েশিয়া। তারা আক্রমণের গতি বাড়িয়ে একটি গোল শোধ করে। এতে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার জন্য চেষ্টা চালায় মালয়েশিয়া।
তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা।
গ্রুপ পর্বে ছিল গোলের বন্যা
এবারের জুনিয়র এশিয়া কাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই চায়নিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা।
এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষেও বড় জয় পায় বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে ৫-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দলটি। এরপর কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে হারায় তারা।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও নিজেদের আক্রমণাত্মক শক্তির প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। হংকংকে ৬-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চার ম্যাচে এত বড় ব্যবধানে জয় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। যদিও পরের ধাপে কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে যেতে পারেনি দলটি, পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা।
ম্যাচসেরার পুরস্কার অধিনায়ক সারিকার
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক সারিকা সাফা রিমন। দলের প্রথম গোলটিও এসেছে তাঁর স্টিক থেকে।
পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো ম্যাচেই নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
সারিকার নেতৃত্বে পুরো দলই শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখে। ফলে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকে বাংলাদেশের জন্য।
২০২৩ সালের সাফল্য ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ
২০২৩ সালের জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে নবম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। এবার সেই অবস্থান থেকে চার ধাপ এগিয়ে পঞ্চম হয়েছে দলটি।
অর্থাৎ, আগের আসরের তুলনায় এবার বাংলাদেশের অবস্থান অনেক উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতাও দেখিয়েছে মেয়েরা।
বিশেষ করে গ্রুপ পর্বে বড় ব্যবধানে জয় এবং পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মালয়েশিয়াকে হারানো বাংলাদেশের উন্নতির চিত্র তুলে ধরেছে।
নারী জুনিয়র হকিতে নতুন সম্ভাবনা
জুনিয়র এশিয়া কাপে বাংলাদেশের এই সাফল্য দেশের নারী হকির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত সাফল্যের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ এবার বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে।
গ্রুপ পর্বে ধারাবাহিক জয়, মালয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে সাফল্য এবং আগের আসরের তুলনায় চার ধাপ উন্নতি—সব মিলিয়ে এবারের আসর বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য বিশেষ হয়ে উঠেছে।
পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করলেও বাংলাদেশের সামনে এখন আরও বড় লক্ষ্য। এই দল থেকে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য একাধিক খেলোয়াড় উঠে আসবেন—এমন প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জয় দিয়ে জুনিয়র এশিয়া কাপ শেষ করায় বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই পারফরম্যান্স দেশের নারী হকিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।























