মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
ই-টায়ার অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ। কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের দেশ মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পাভেল হাসান ও মোহাম্মদ বায়েজিদদের দল। বাংলাদেশের বড় জয়ে জোড়া গোল করেছেন পাভেল। বাকি দুটি গোল করেছেন মোহাম্মদ বায়েজিদ ও শিবাক কুমার মালি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে তরুণ ফুটবলাররা। শেষ পর্যন্ত চার গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শুরুতেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ
ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। আক্রমণাত্মক ফুটবলের সুফলও দ্রুত পেয়ে যায় দলটি। খেলার নবম মিনিটে মোহাম্মদ বায়েজিদের গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। শুরুতেই পাওয়া এই গোল খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর জন্য একাধিক আক্রমণ করে বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পাভেল হাসানের দল।
দ্বিতীয়ার্ধে পাভেলের জোড়া গোল
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে দলের গোলসংখ্যা বাড়ানোর দায়িত্ব নেন পাভেল হাসান। তাঁর দারুণ ফিনিশিংয়ে একের পর এক গোল পায় বাংলাদেশ। পাভেলের জোড়া গোলে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে জয়ের ভিত আরও মজবুত হয়।
এদিকে পাভেলের দুই গোলের মাঝে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠান শিবাক কুমার মালি। ফলে বাংলাদেশের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মন্টেনেগ্রোকে কোনো গোলের সুযোগ না দিয়ে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। তবে সেমিফাইনালে ওঠার পথ বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্বের আগের ম্যাচগুলোতেও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে তরুণ ফুটবলারদের।
বাছাইপর্বে মিশ্র অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের
মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে জয়ের আগে বাছাইপর্বে বেশ কয়েকটি কঠিন ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ওয়েলসের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে প্রতিযোগিতায় যাত্রা শুরু করে দলটি। পরের ম্যাচে পর্তুগালের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ।
এরপর বুরুন্ডির বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। তবে সেই ধাক্কা সামলে ফিজির বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয় খেলোয়াড়দের পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস জোগায়।
টাইব্রেকারে দুই বাধা পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল
নকআউট পর্বেও বাংলাদেশের লড়াই ছিল বেশ কঠিন। শেষ বত্রিশের ম্যাচে সিশেলসের বিপক্ষে নির্ধারিত ৪০ মিনিটের খেলা ১-১ গোলে শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ।
শেষ ষোলোতেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় দলটি। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
এরপর মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ৪-০ গোলের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে মাতে দলটি।
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
আট ম্যাচে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ জয়। টুর্নামেন্টের শুরুতে ড্র ও হারের কারণে দলকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হলেও নকআউট পর্বে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে খেলোয়াড়রা।
বিশেষ করে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে চার গোলের জয় বাংলাদেশের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তা তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দেওয়ায় রক্ষণভাগের পারফরম্যান্সও ছিল উল্লেখযোগ্য।
এখন সেমিফাইনালে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৫ দল। মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে পাওয়া বড় জয় পরবর্তী ম্যাচে দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে পাভেল হাসান ও তাঁর সতীর্থদের প্রধান লক্ষ্য।





















