বরিশাল বোর্ডে পাসের হারে তলানিতে ঝালকাঠি
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬১৮ বার পড়া হয়েছে
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে ছয় জেলার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঝালকাঠি। এ বছর জেলায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। ফলাফলের এমন চিত্রে জেলার শিক্ষার মান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সদ্য প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ঝালকাঠি জেলা থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪ হাজার ৬৯৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬৫৩ জন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছে ৩ হাজার ৪৬ জন। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি পাস করতে পারেনি।
জেলায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৩৮ জন শিক্ষার্থী। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে পাসের হারে সবার নিচে অবস্থান করছে ঝালকাঠি। এমন ফলাফল জেলার শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পাসের হার নিয়ে উদ্বেগ
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি জেলার শিক্ষার মান ও অগ্রগতি মূল্যায়নের অন্যতম সূচক হলো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল। সেই বিবেচনায় ঝালকাঠির এবারের ফলাফল উদ্বেগজনক। বিশেষ করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪ হাজার ৬৯৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ৪৬ জনের অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনার ঘাটতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের দাবি
এদিকে, ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর হতাশা প্রকাশ করলেই চলবে না। বরং শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহি বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিশেষ ক্লাস ও অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ঝালকাঠির শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে চলা ঝালকাঠি জেলার জন্য এবারের এইচএসসি ফলাফল একটি সতর্কবার্তা। আগামী দিনে এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী উদ্যোগ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।






















