পল্লবীতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, আটক ২
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পল্লবীর কালশী রোডে পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পল্লবীর কালশী রোড এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।
নিরাপত্তার কারণে বন্ধ মিরপুর-১১ মেট্রোরেল স্টেশন
শ্রমিকদের আন্দোলন ও সংঘর্ষের কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।
মঙ্গলবার সকালে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কন্ট্রোল রুম জানায়, সকাল থেকেই মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেওয়ায় মেট্রোরেলের যাত্রী ও স্টেশনের নিরাপত্তা বিবেচনায় স্টেশনটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে কোনো ট্রেন থামছে না। সেখানে যাত্রী ওঠানামাও বন্ধ রয়েছে। তবে মেট্রোরেলের অন্যান্য স্টেশনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশন আবার চালু করা হবে বলে জানিয়েছে এমআরটি পুলিশ কন্ট্রোল রুম।
টানা চতুর্থ দিনের মতো শ্রমিকদের আন্দোলন
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের এই আন্দোলন মঙ্গলবার টানা চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। এ দাবিতে কয়েক দিন ধরে মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলন, সড়কে বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

























