নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, কাদায় চাপা সব
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আর কোনো শ্রমিক জীবিত নেই। শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার ওই সুড়ঙ্গ থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে সেখানে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালানো হয়। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো শ্রমিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কাদা ও মাটিতে চাপা সুড়ঙ্গ
নেপালের সশস্ত্র পুলিশবাহিনীর (এপিএফ) সাত সদস্যের একটি বিশেষ দল সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে। দলের নেতৃত্ব দেন হেড কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাং। একই সঙ্গে নেপালি সেনার সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
এপিএফ সদস্য অম্বর মাহাত জানান, পুরো প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ কাদা ও মাটিতে চাপা পড়েছে। কোথাও কোথাও পাথরও জমে আছে। উদ্ধারকারীরা হামাগুড়ি দিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সুড়ঙ্গের ভেতরে এগিয়ে যান।
তবে সেখানে তারা শুধু কাদা, মাটি ও পাথরের স্তূপ দেখতে পান। প্রবল পানির চাপে সুড়ঙ্গের ওপরের স্ল্যাবও ধসে পড়েছে।
ন’দিন পর জীবিত উদ্ধার দুই শ্রমিক
গত ২৬ আগস্ট ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। ওই সময় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ চলছিল। বন্যায় এসব প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের সুড়ঙ্গে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ হন। এরপর সেনা ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
অবশেষে ন’দিন পর ত্রিশূলীর একটি সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। একই সুড়ঙ্গ থেকে আরও এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সুড়ঙ্গে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা
উদ্ধারের পর সঞ্জয় জানান, বন্যার পানি আসার খবর পেয়ে তিনি অন্য শ্রমিকদের সুড়ঙ্গ থেকে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে নিজের বের হতে দেরি হয়ে যায়। পরে তিনি সুড়ঙ্গের ভেতরেই আটকা পড়েন।
ন’দিন ধরে তিনি সুড়ঙ্গের ভেতরে মন্ত্র জপ করেছেন এবং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন। শেষ পর্যন্ত জীবিত বের হতে পারবেন, এমন আশা তার ছিল না।
এদিকে, শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে আকস্মিক বন্যায় ১ হাজার ২৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।























