নিখোঁজের আগে মায়ের সঙ্গে শপিং, হাসিখুশি ছিলেন তাহসিফ
- আপডেট সময় : ০৬:০৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
বিমানবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া পাইলট তাহসিফ সাউরির মৃত্যু কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয় বলে দাবি করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। নিখোঁজ হওয়ার দিন তাহসিফ মায়ের সঙ্গে সারাদিন কেনাকাটা করেছেন এবং স্বাভাবিকভাবে হাসিখুশি ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাহসিফের বাবা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান বাবা
কে এম এনায়েতুল করিম মনে করেন, সরকারি তদন্তের মাধ্যমে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব। তার ভাষ্য, একজন পাইলট দেশের সম্পদ। কী উদ্দেশ্যে এবং কোন চক্র এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা প্রয়োজন।
তাহসিফ কোনো ধরনের হুমকি পেয়েছিলেন কি না, কিংবা তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন কি না—এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান তার বাবা। চাকরি চলে যাওয়ার পর ছেলে কোনো শঙ্কা বা আশঙ্কার কথা পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি নেতিবাচক উত্তর দেন।
তার বাবার দাবি, নিখোঁজ হওয়ার দিন তাহসিফের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি। বরং মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করে দিনটি কাটিয়েছিলেন তিনি। এ কারণে ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না পরিবার।
বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার দিনের ঘটনা তুলে ধরে কে এম এনায়েতুল করিম জানান, সেদিন দ্বীপ নামে তাহসিফের এক বন্ধু বাসায় এসে তাকে ডেকে নিয়ে যান। তখন তাহসিফ তার মাকে বলেছিলেন, নিচে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে ফিরে আসবেন। তবে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি তিনি।
পরিবারের সদস্যরা ছেলের ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। এর মধ্যে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের কাছ থেকে একটি ভয়েস মেসেজ পান তারা। ওই বার্তায় বাড়ি ফেরার কথা জানিয়ে তাহসিফ বলেছিলেন, ‘আমি আসতেছি। রওনা হইছি, আসতেছি।’
তবে ওই বার্তার পরও তাহসিফ বাসায় ফেরেননি। তার নিখোঁজ হওয়ার পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা চলছে।
বন্ধুর বক্তব্য তুলে ধরলেন বাবা
দ্বীপের সঙ্গে আগে থেকেই তাদের পরিচয় ছিল বলে জানান কে এম এনায়েতুল করিম। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ওই বন্ধুর সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তাহসিফের বাবার ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপ জানিয়েছেন, আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি তাহসিফের সঙ্গে তাদের বাসার কম্পাউন্ডে ছিলেন। তবে এরপর কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন দ্বীপ।
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে তার মৃত্যুর পেছনের ঘটনাগুলো পরিষ্কার করতে তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন তার বাবা। তিনি চান, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসুক এবং কেউ জড়িত থাকলে তাকে শনাক্ত করা হোক।
দাফন শেষে মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত
ছেলের দাফন-কাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের বক্তব্য, নিখোঁজ হওয়ার দিনের পরিস্থিতি, বন্ধুর সঙ্গে তার যোগাযোগ এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে পাঠানো ভয়েস মেসেজ—সবকিছু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের ফলাফলের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।






















