০১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, ৪৮ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১৫; হটস্পট দাউদকান্দি

কুমিল্লা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৯২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ৪৯৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর আগস্ট মাসের প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১৫ জন। আক্রান্তের দিক থেকে জেলার দাউদকান্দি উপজেলা এখন ডেঙ্গুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৩ আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় নতুন করে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলাতেই শনাক্ত হয়েছেন ১২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে দাউদকান্দি উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৮২ জন। চলতি আগস্টের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে জেলার মোট আক্রান্তের বড় একটি অংশই এ উপজেলা থেকে শনাক্ত হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বর্ষা অব্যাহত থাকলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ নয়; এটি দ্রুত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। বর্ষার জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা ও প্লাস্টিকের পাত্রসহ ছোট ছোট জলাধার এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তার জ্বরে আক্রান্ত হন। কয়েকদিন পর তার মেয়েরও জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষা করে জানা যায়, মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, “বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকতে হয়। এরপরই জ্বরে আক্রান্ত হই।”

জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “আমি দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।”

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন গত বছর দাউদকান্দি পৌরসভার সাহাপাড়া, দোনারচর ও সবজিকান্দি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল। এবারও মূলত এসব এলাকা ও আশপাশ থেকেই রোগীরা আসছেন। তাই ওই এলাকাগুলোতে নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন এসএ টিভি কে বলেন দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস মশারি ও মশা নিরোধক ব্যবহার এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কুমিল্লায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, ৪৮ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১১৫; হটস্পট দাউদকান্দি

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষার বৃষ্টিপাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ৪৯৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর আগস্ট মাসের প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১৫ জন। আক্রান্তের দিক থেকে জেলার দাউদকান্দি উপজেলা এখন ডেঙ্গুর প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৩ আগস্টের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় নতুন করে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলাতেই শনাক্ত হয়েছেন ১২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে দাউদকান্দি উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৮২ জন। চলতি আগস্টের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে জেলার মোট আক্রান্তের বড় একটি অংশই এ উপজেলা থেকে শনাক্ত হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বর্ষা অব্যাহত থাকলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক রোগ নয়; এটি দ্রুত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। বর্ষার জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি, ডাবের খোসা ও প্লাস্টিকের পাত্রসহ ছোট ছোট জলাধার এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল। এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তার জ্বরে আক্রান্ত হন। কয়েকদিন পর তার মেয়েরও জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষা করে জানা যায়, মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।

কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, “বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকতে হয়। এরপরই জ্বরে আক্রান্ত হই।”

জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “আমি দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছি। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।”

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন গত বছর দাউদকান্দি পৌরসভার সাহাপাড়া, দোনারচর ও সবজিকান্দি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল। এবারও মূলত এসব এলাকা ও আশপাশ থেকেই রোগীরা আসছেন। তাই ওই এলাকাগুলোতে নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন এসএ টিভি কে বলেন দিন দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস মশারি ও মশা নিরোধক ব্যবহার এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছে।