০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

বেনাপোল দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু

শেখ নাছির উদ্দীন বেনাপোল
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬১৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত এবং তীব্র সরবরাহ সংকটের কারণে কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বী আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ভারতের মহারাষ্ট্র ও নাসিক অঞ্চল থেকে কাঁচা মরিচের প্রথম চালান যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাতকরন শেষে এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

​আজ সকাল মঙ্গলবার রয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সিএনএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মহারাষ্ট্র থেকে আরোও ১৫ টন কাঁচা মরিচের একটি চালান দেশে এসেছে যা বন্দর থেকে কাঁচা মরিচ গাড়িতে খালাস করা হচ্ছে

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে ভারতের একটি ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘শিমু এন্টারপ্রাইজ’ এবং খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘শিমু শিপিং লাইন্স’।
বেনাপোল উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাফ জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা মরিচের বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত আইনি ও কাগজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক অপেক্ষমাণ রয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে বন্দরে প্রবেশ করবে
​সরকারি ব্যয় ৭৮ টাকা, আমদানিকারকের দাবি ১৩৫ টাকা,কাঁচা মরিচ আমদানির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ঘোষিত মূল্য প্রতি টন ২৩,৮৭৫ টাকা (কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা)।

বেনাপোল কাস্টম সূত্রে জানা যায় প্রতি কেজি কাঁচা ঝাল শুল্ক নেওয়া হচ্ছে নেওয়া হচ্ছে ৩৭ টাকা
​অন্যান্য খরচ বন্দর ব্যয়, পরিবহন, কাস্টমস ও শ্রমিক মজুরিসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি সরকারি হিসাব অনুযায়ী মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ টাকা
তবে এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তব খরচের বড় পার্থক্যের দাবি করেছেন আমদানিকারকরা।
আমদানিকারক শাহাজান জানান, কাস্টমসের জটিলতা, নানা খাতের অতিরিক্ত ব্যয় এবং পণ্য ছাড়করণে বিলম্বের কারণে সব মিলিয়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তার প্রায় ১৩৫ টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
​সোমবার বেনাপোলের স্থানীয় খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমদানিকারকের দাবি করা ১৩৫ টাকা খরচের হিসাব ধরলেও, খুচরা বাজারের ব্যবধান কেজিপ্রতি দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা! বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হাতবদল, পরিবহন খরচ এবং কার্যকর বাজার তদারকির অভাবেই এই বিশাল পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই ভারত থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, শুধু আমদানির অনুমতি দিলেই বাজারে সুফল মিলবে না। বন্দর খালাস প্রক্রিয়া সহজ করা, কাস্টমসের শুল্ক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোর প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করলেই তবেই মরিচের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বেনাপোল দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত এবং তীব্র সরবরাহ সংকটের কারণে কাঁচা মরিচের দাম আকাশচুম্বী আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে ভারতের মহারাষ্ট্র ও নাসিক অঞ্চল থেকে কাঁচা মরিচের প্রথম চালান যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াজাতকরন শেষে এসব মরিচ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে।

​আজ সকাল মঙ্গলবার রয়েল এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সিএনএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান মহারাষ্ট্র থেকে আরোও ১৫ টন কাঁচা মরিচের একটি চালান দেশে এসেছে যা বন্দর থেকে কাঁচা মরিচ গাড়িতে খালাস করা হচ্ছে

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে ভারতের একটি ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচা মরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘শিমু এন্টারপ্রাইজ’ এবং খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘শিমু শিপিং লাইন্স’।
বেনাপোল উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাফ জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা মরিচের বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রথম ধাপে ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মরিচবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর পর দ্রুত আইনি ও কাগজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে খালাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওপারে আরও কয়েকটি ট্রাক অপেক্ষমাণ রয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে বন্দরে প্রবেশ করবে
​সরকারি ব্যয় ৭৮ টাকা, আমদানিকারকের দাবি ১৩৫ টাকা,কাঁচা মরিচ আমদানির নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় ঘোষিত মূল্য প্রতি টন ২৩,৮৭৫ টাকা (কেজিপ্রতি প্রায় ২৪ টাকা)।

বেনাপোল কাস্টম সূত্রে জানা যায় প্রতি কেজি কাঁচা ঝাল শুল্ক নেওয়া হচ্ছে নেওয়া হচ্ছে ৩৭ টাকা
​অন্যান্য খরচ বন্দর ব্যয়, পরিবহন, কাস্টমস ও শ্রমিক মজুরিসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে কেজিপ্রতি সরকারি হিসাব অনুযায়ী মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ টাকা
তবে এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তব খরচের বড় পার্থক্যের দাবি করেছেন আমদানিকারকরা।
আমদানিকারক শাহাজান জানান, কাস্টমসের জটিলতা, নানা খাতের অতিরিক্ত ব্যয় এবং পণ্য ছাড়করণে বিলম্বের কারণে সব মিলিয়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে তার প্রায় ১৩৫ টাকা খরচ পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে তাদের বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
​সোমবার বেনাপোলের স্থানীয় খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমদানিকারকের দাবি করা ১৩৫ টাকা খরচের হিসাব ধরলেও, খুচরা বাজারের ব্যবধান কেজিপ্রতি দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা! বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হাতবদল, পরিবহন খরচ এবং কার্যকর বাজার তদারকির অভাবেই এই বিশাল পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিত্যপণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যেই ভারত থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, শুধু আমদানির অনুমতি দিলেই বাজারে সুফল মিলবে না। বন্দর খালাস প্রক্রিয়া সহজ করা, কাস্টমসের শুল্ক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা এবং পাইকারি ও খুচরা বাজারে কঠোর প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করলেই তবেই মরিচের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।