কক্সবাজারে হোটেল বারে যুবক খুন, পুলিশ হেফাজতে মারা গেলেন অভিযুক্ত
- আপডেট সময় : ১২:৪১:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোলাইমানের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় সোলাইমানকে আটক করা হয়। আটকের সময় তিনি আহত ছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দ্বিতীয় তলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে একটি পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজনকে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় রাশেদকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার পর রাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা সোলাইমানকে আটক করে মারধর করার পর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান জানান, হোটেলের বারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সূত্রপাত, হামলায় কারা জড়িত এবং কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















