ইয়েমেনে সেনা অভিযান, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ হুথি যোদ্ধা নিষ্ক্রিয়ের দাবি
- আপডেট সময় : ০২:৫৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে দেশটির সরকারি সেনাবাহিনী। ‘ডন অব ইয়েমেন’ (ইয়েমেনের ভোর) নামের এই অভিযানে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪৪০ জন হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল নুজাইলি।
তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন অবস্থান ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ১ হাজার ২৯৮টি হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ৪৪০ জন হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
বিমান, ড্রোন ও কামান দিয়ে হামলা
সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। হুথিদের অবস্থান, সমাবেশস্থল, সামরিক শক্তিবৃদ্ধি ইউনিট, যানবাহন এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযানে হুথিদের ১৩২টি সামরিক যান, সাঁজোয়া যান ও ভারী অস্ত্র ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
তাইজের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে
মুখপাত্র জানান, স্থানীয় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সহায়তায় সরকারি বাহিনী তাইজ প্রদেশের সানামাত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ফ্রন্টে হুথিদের অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট হুথি যোদ্ধাদের চলাচল ও নতুন করে শক্তি সমাবেশের ওপর নজর রেখে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য এলাকায় এখনো সংঘর্ষ চলছে।
স্থলমাইন অপসারণে কাজ করছে সেনাবাহিনী
আল-জউফ প্রদেশে পুনরুদ্ধার করা এলাকাগুলো নিরাপদ করতে সামরিক প্রকৌশল ইউনিট কাজ করছে বলে জানান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র।
এসব এলাকায় পুঁতে রাখা স্থলমাইন ও বিস্ফোরক অপসারণ করা হচ্ছে। বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
এদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টেও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এসব এলাকায় হুথিদের অবস্থান, সামরিক যানবাহন ও গোলাবর্ষণের কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী।
অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র।
দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র
২০১৪ সালে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানী সানা দখল করে নেয় হুথি বিদ্রোহীরা। এরপর দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরবের সহযোগিতায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিভিন্ন এলাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার।
দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চললেও সরকারি বাহিনীর অগ্রগতি ছিল ধীরগতির। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হুথি ও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ অক্টোবর থেকে ‘ডন অব ইয়েমেন’ সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে অভিযান ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


























