০২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানকে থামাতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৭৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না পশ্চিমা দেশগুলোর। এবার তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে লাগাম টানতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি মিলে একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তৈরি করা এই খসড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে।

কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএইএ বৈঠকে উঠতে পারে খসড়া

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকে প্রস্তাবের খসড়াটি বিবেচনার জন্য তোলা হতে পারে।

তবে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইএইএ বোর্ডে জমাও দেওয়া হয়নি। ফলে আলোচনার ভিত্তিতে এর ভাষা ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইরানের ওপর কী চাপ বাড়তে পারে

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির অধীনে ইরানের কিছু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দেশটিকে তার পারমাণবিক উপাদান ও কার্যক্রম ঘোষণা করতে হয়।

একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য আইএইএ পরিদর্শকদের প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা।

২০২৫ সালের জুনে আইএইএ বোর্ড প্রথমবারের মতো প্রায় দুই দশকের মধ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ ঘোষণা করে।

এর একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

এখন নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে বিষয়টি গেলে ইরানের ওপর আরও কঠোর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

রাশিয়া-চীনের ভেটো বড় বাধা

তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো কঠোর জাতিসংঘ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এর অন্যতম কারণ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশ দুটিরই ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

ফলে প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত গেলেও সেখানে সেটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

খসড়ায় যা বলা হয়েছে

খসড়া প্রস্তাবে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তাকে প্রস্তাবটি এবং আগে গৃহীত সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো আইএইএর সব সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদেও এসব নথি পাঠানোর অনুরোধ রয়েছে।

প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে আগামী সপ্তাহের আইএইএ বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠকে ভোট হতে পারে।

তবে ভোটের আগে সদস্য দেশগুলো সংশোধনী প্রস্তাব দিতে পারবে। তাই চূড়ান্ত ভোটের আগে খসড়াটির ভাষা ও বিভিন্ন ধারা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের অবস্থান এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইরানকে থামাতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ যুক্তরাষ্ট্রসহ ৪ দেশ

আপডেট সময় : ০১:০৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সামরিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না পশ্চিমা দেশগুলোর। এবার তেহরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে লাগাম টানতে জাতিসংঘের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ চার দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি মিলে একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তৈরি করা এই খসড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে।

কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

আইএইএ বৈঠকে উঠতে পারে খসড়া

সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকে প্রস্তাবের খসড়াটি বিবেচনার জন্য তোলা হতে পারে।

তবে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, খসড়াটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আইএইএ বোর্ডে জমাও দেওয়া হয়নি। ফলে আলোচনার ভিত্তিতে এর ভাষা ও বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন আসতে পারে।

ইরানের ওপর কী চাপ বাড়তে পারে

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির অধীনে ইরানের কিছু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দেশটিকে তার পারমাণবিক উপাদান ও কার্যক্রম ঘোষণা করতে হয়।

একই সঙ্গে এসব কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য আইএইএ পরিদর্শকদের প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা।

২০২৫ সালের জুনে আইএইএ বোর্ড প্রথমবারের মতো প্রায় দুই দশকের মধ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ ঘোষণা করে।

এর একদিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।

এখন নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে বিষয়টি গেলে ইরানের ওপর আরও কঠোর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদ চাইলে নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দসহ বিভিন্ন বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

রাশিয়া-চীনের ভেটো বড় বাধা

তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো কঠোর জাতিসংঘ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এর অন্যতম কারণ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশ দুটিরই ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

ফলে প্রস্তাবটি নিরাপত্তা পরিষদ পর্যন্ত গেলেও সেখানে সেটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

খসড়ায় যা বলা হয়েছে

খসড়া প্রস্তাবে আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তাকে প্রস্তাবটি এবং আগে গৃহীত সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো আইএইএর সব সদস্য রাষ্ট্রের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদেও এসব নথি পাঠানোর অনুরোধ রয়েছে।

প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হলে আগামী সপ্তাহের আইএইএ বোর্ড অব গভর্নর্সের বৈঠকে ভোট হতে পারে।

তবে ভোটের আগে সদস্য দেশগুলো সংশোধনী প্রস্তাব দিতে পারবে। তাই চূড়ান্ত ভোটের আগে খসড়াটির ভাষা ও বিভিন্ন ধারা পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের অবস্থান এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।