আশুলিয়ায় একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১২:০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের নবজাতক সন্তান রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে এখনো তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হযরত আলীর মালিকানাধীন একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ওই বাসার একটি কক্ষ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ঘরের দরজা খুলে ভেতর থেকে তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ঘরটি বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো পচন ধরেছে।
স্বামীর গলায় গামছা
উদ্ধার করা মরদেহগুলোর মধ্যে স্বামীর গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
তবে গলায় গামছা থাকার বিষয়টি থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলা যাচ্ছে না। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করছে পুলিশ।
আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বন্ধ ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফরেনসিক টিমের আলামত সংগ্রহ
ঘটনার খবর পেয়ে সিআইডির ফরেনসিক টিমও ঘটনাস্থলে যায়। তারা ঘরের ভেতর থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কোনো কারণ?
একই পরিবারের তিনজনের একসঙ্গে মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্বামীর গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ।
তবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে—এখনো তা নিশ্চিত নয়।
পুলিশ বলছে, তদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।





















