দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো দিলীপ আগরওয়ালাকে
- আপডেট সময় : ১২:৩০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে ১১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দিলীপ কুমার আগরওয়ালা আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি চাওয়া হয়।
১১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের অভিযোগ
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা অসাধু উপায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া এসব সম্পদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে। দুদকের দাবি, তার বৈধ আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পদের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
৩৪টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫৫ কোটি টাকার লেনদেন
দুদকের অনুসন্ধানে দিলীপ আগরওয়ালা ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করা হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব হিসাবে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তোলন করা হয়েছে ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা।
সব মিলিয়ে এসব হিসাবে ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেন হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে এসব অর্থের উৎস ও ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। পাশাপাশি অর্থপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে মামলা করে দুদক
এর আগে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ মামলাটি করে।
মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, মামলার তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন দিলীপ
বর্তমানে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ কারণে দুদকের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়।
পরে আদালত দুদকের আবেদন বিবেচনা করেন। এরপর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এ আদেশের ফলে দুদকের দায়ের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত করছে দুদক। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।



















