০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

একসঙ্গে চিরনিদ্রায় শায়িত বজ্রপাতে নিহত ৬ শিশু-কিশোর

পাবনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে বজ্রপাতে নিহত ছয় শিশু-কিশোরের জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে একই কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একসঙ্গে ছয়জনের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার সকাল ১০টায় মালঞ্চি ইউনিয়নের মহাদেবপুর গোরস্থান মাঠে নিহতদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। পরে একই কবরস্থানে ছয়জনকে সারিবদ্ধভাবে দাফন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হন।

নিহত ছয়জনের পরিচয়

বজ্রপাতে নিহতরা হলেন মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুন্ডা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২৪), নলমুড়া এলাকার ইসমাইল মোল্লার ছেলে রব্বেল মোল্লা (২০), শাজাহান প্রামানিকের ছেলে মিজানুর রহমান (১০), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১৪), শাহাদুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮) এবং ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী মিজানুর রহমানের বয়স মাত্র ১০ বছর। অন্যদিকে সাজিদ ও ইমনের বয়স ১৪ বছর।

ফলে অল্প বয়সে এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্তান হারিয়ে শোকাহত পরিবারগুলোর আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

যেভাবে ঘটে বজ্রপাতের মর্মান্তিক ঘটনা

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় আটজন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে বিলের মধ্যে থাকা একটি টং ঘরে আশ্রয় নেন।

এরপর হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি আরও দুজন গুরুতর আহত হন।

বজ্রপাতের পর হতাহত ব্যক্তিরা বেশ কিছুক্ষণ টং ঘরের মধ্যেই পড়েছিলেন। তবে বিলের মধ্যে ঘটনাটি ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বিষয়টি জানতে পারেননি।

পরে সন্ধ্যার দিকে আশপাশের এলাকার মানুষ ঘটনাটি জানতে পারেন। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। এরপর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পাশাপাশি ছয়জনের দাফন, এলাকাজুড়ে শোক

শনিবার সকালে নিহতদের জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা অংশ নেন। জানাজা শেষে ছয়জনকে একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

এদিকে একসঙ্গে ছয়টি মরদেহ দাফনের দৃশ্য উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করে। স্বজনদের কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় শুধু নিহতদের পরিবার নয়, পুরো ইউনিয়নের মানুষ শোকাহত। অনেকেই নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে ছুটে যান।

নিহত ও আহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

এদিকে বজ্রপাতে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা।

তিনি জানান, শনিবার সকালে নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের ঘোষিত বজ্রপাতে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা নীতিমালার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বজ্রপাতে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে আহত প্রত্যেকের পরিবার পাবে ২০ হাজার টাকা করে।

অর্থাৎ, ছয়টি নিহত পরিবারের প্রত্যেকেই সরকারি সহায়তা পাবে। পাশাপাশি আহত দুজনের পরিবারকেও নির্ধারিত অর্থ দেওয়া হবে।

বজ্রপাত থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

পাবনার এ মর্মান্তিক ঘটনা আবারও বজ্রপাতের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে বর্ষা ও বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, বিল ও জলাশয়ে অবস্থান করা বিপজ্জনক হতে পারে।

তাই বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জরুরি। একই সঙ্গে খোলা জায়গা, জলাশয়, উঁচু গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে হবে।

এদিকে ছয়জনের এমন মৃত্যুতে মালঞ্চি ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে শোকাহত পরিবারগুলো এখন কঠিন সময় পার করছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

একসঙ্গে চিরনিদ্রায় শায়িত বজ্রপাতে নিহত ৬ শিশু-কিশোর

আপডেট সময় : ০২:০৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে বজ্রপাতে নিহত ছয় শিশু-কিশোরের জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে একই কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একসঙ্গে ছয়জনের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার সকাল ১০টায় মালঞ্চি ইউনিয়নের মহাদেবপুর গোরস্থান মাঠে নিহতদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। পরে একই কবরস্থানে ছয়জনকে সারিবদ্ধভাবে দাফন করা হয়।

এর আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হন।

নিহত ছয়জনের পরিচয়

বজ্রপাতে নিহতরা হলেন মালঞ্চি ইউনিয়নের গজমতিকুন্ডা এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে শাওন (২৪), নলমুড়া এলাকার ইসমাইল মোল্লার ছেলে রব্বেল মোল্লা (২০), শাজাহান প্রামানিকের ছেলে মিজানুর রহমান (১০), নাজিম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ (১৪), শাহাদুলের ছেলে আব্দুল্লাহ (১৮) এবং ইবাদুলের ছেলে ইমন (১৪)।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী মিজানুর রহমানের বয়স মাত্র ১০ বছর। অন্যদিকে সাজিদ ও ইমনের বয়স ১৪ বছর।

ফলে অল্প বয়সে এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্তান হারিয়ে শোকাহত পরিবারগুলোর আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

যেভাবে ঘটে বজ্রপাতের মর্মান্তিক ঘটনা

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন সোনাপাতি বিলে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় আটজন বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে বিলের মধ্যে থাকা একটি টং ঘরে আশ্রয় নেন।

এরপর হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি আরও দুজন গুরুতর আহত হন।

বজ্রপাতের পর হতাহত ব্যক্তিরা বেশ কিছুক্ষণ টং ঘরের মধ্যেই পড়েছিলেন। তবে বিলের মধ্যে ঘটনাটি ঘটায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বিষয়টি জানতে পারেননি।

পরে সন্ধ্যার দিকে আশপাশের এলাকার মানুষ ঘটনাটি জানতে পারেন। তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। এরপর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পাশাপাশি ছয়জনের দাফন, এলাকাজুড়ে শোক

শনিবার সকালে নিহতদের জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা অংশ নেন। জানাজা শেষে ছয়জনকে একই কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।

এদিকে একসঙ্গে ছয়টি মরদেহ দাফনের দৃশ্য উপস্থিত মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করে। স্বজনদের কান্নায় সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় শুধু নিহতদের পরিবার নয়, পুরো ইউনিয়নের মানুষ শোকাহত। অনেকেই নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাড়িতে ছুটে যান।

নিহত ও আহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা

এদিকে বজ্রপাতে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা।

তিনি জানান, শনিবার সকালে নিহতদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের ঘোষিত বজ্রপাতে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা নীতিমালার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বজ্রপাতে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে আহত প্রত্যেকের পরিবার পাবে ২০ হাজার টাকা করে।

অর্থাৎ, ছয়টি নিহত পরিবারের প্রত্যেকেই সরকারি সহায়তা পাবে। পাশাপাশি আহত দুজনের পরিবারকেও নির্ধারিত অর্থ দেওয়া হবে।

বজ্রপাত থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান

পাবনার এ মর্মান্তিক ঘটনা আবারও বজ্রপাতের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে বর্ষা ও বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, বিল ও জলাশয়ে অবস্থান করা বিপজ্জনক হতে পারে।

তাই বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জরুরি। একই সঙ্গে খোলা জায়গা, জলাশয়, উঁচু গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে হবে।

এদিকে ছয়জনের এমন মৃত্যুতে মালঞ্চি ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে শোক বিরাজ করছে। স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে শোকাহত পরিবারগুলো এখন কঠিন সময় পার করছে।