মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট সংযোজনে আরও সময় চাইল বিআরটিএ
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৮ বার পড়া হয়েছে
মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজনের নির্ধারিত সময়সীমা আরও দেড় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। দেশে বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন করা কঠিন হওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি এখনো প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্ধারিত সময়সীমাই কার্যকর থাকছে।
কেন সময় বাড়ানোর প্রস্তাব বিআরটিএর?
বিআরটিএর চেয়ারম্যানের বিবেচ্যপত্রে সময় বাড়ানোর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। অর্থাৎ, মোট নিবন্ধিত মোটরযানের প্রায় ৭৪ শতাংশই মোটরসাইকেল।
এত বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন সম্পন্ন করা কঠিন। তাই মোটরসাইকেল মালিকদের সুবিধা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
এ ছাড়া সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজন নিয়ে মোটরসাইকেল মালিকদের বিভিন্ন মতামত ও মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আগে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল
এর আগে বিআরটিএর এক গণবিজ্ঞপ্তিতে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট সংযোজন করে প্রদর্শনের জন্য ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত মাপ, উপকরণ ও নম্বর লেখার পদ্ধতি সম্পর্কেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত আরএফআইডিসহ উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ ধাতব প্লেটে নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। এর পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের অংশেও নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর সহজে শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি করা। তবে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলে নম্বরপ্লেট সংযোজনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্কুটার ও মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের মাপ
বিআরটিএর গণবিজ্ঞপ্তিতে স্কুটার ও অন্যান্য মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের জন্য আলাদা মাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের সম্মুখভাগে সংযোজিত নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হতে হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। অন্যদিকে, স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮৫ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার।
উভয় ধরনের নম্বরপ্লেটেই অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা কমপক্ষে ২০ মিলিমিটার রাখতে হবে। নির্ধারিত মাপ অনুসরণ করে প্লেট তৈরি ও সংযোজন করতে হবে।
নম্বরপ্লেট তৈরিতে যেসব নির্দেশনা মানতে হবে
বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, সামনের নম্বরপ্লেট স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হতে হবে। প্লেটের পটভূমি হবে সাদা। এর ওপর কালো রঙে বাংলা অক্ষর ও সংখ্যা ব্যবহার করে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।
এ ছাড়া নম্বরপ্লেটে কোনো ধরনের শোভাবর্ধক উপাদান বা নকশা ব্যবহার করা যাবে না। নম্বর যেন সহজে দেখা ও পড়া যায়, সে বিষয়টিও নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নিশ্চিত করতে হবে। তবে স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন নম্বর একটি আনুভূমিক রেখায় প্রদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত মাপ ও অন্যান্য শর্ত অনুসরণ করে সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজন করতে বলা হয়েছিল।
সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়
গণবিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবটি মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে বিআরটিএর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সময়সীমা বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে মোটরসাইকেল মালিকেরা সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজনের জন্য ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় পাবেন।
তাই নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত মোটরসাইকেল মালিকদের বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং বিআরটিএর পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।






















