শিক্ষক নিয়োগের রায় জালিয়াতির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলায় জালিয়াতির মাধ্যমে রায় নেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা ছাড়তে নিষেধ করেছেন আপিল বিভাগ। এ ঘটনায় আদালতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। তবে মামলাটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আগামী সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগের মামলায় কী অভিযোগ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত একটি রিট মামলায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে রায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলায় রুল জারির পর যথাযথ শুনানি ছাড়াই রায় নেওয়া হয়েছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবরে বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে নিষ্পত্তি হওয়া কয়েকটি মামলার রায় নিয়ে এ অভিযোগ সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রচলিত বিচারিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরে রাষ্ট্রপক্ষ এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি আপিল বিভাগের নজরে আসে। সেখান থেকেই রায় গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
আপিল বিভাগে নিঃশর্ত ক্ষমা
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের শুনানিতে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তবে তাঁর ক্ষমা প্রার্থনার পরও আদালত তাৎক্ষণিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। বরং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে ঢাকা ছাড়তে নিষেধ করা হয়েছে।
আদালতের এ নির্দেশের ফলে মামলাটির পরবর্তী শুনানি ও সিদ্ধান্তের দিকে নজর থাকবে আইনজীবী মহলসহ সংশ্লিষ্টদের।
হাইকোর্টের একাধিক রায় পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলায় রুল জারির পর শুনানি ছাড়াই রায় নেওয়ার অভিযোগে জালিয়াতির বিষয়টি আপিল বিভাগে ধরা পড়ে।
তিনি জানান, আপিল বিভাগ প্রয়োজনে তৎকালীন বিচারপতি নাইমা হায়দারের বেঞ্চের দেওয়া সব রায় পুনর্বিবেচনা করার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে পারে।
এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের একাধিক মামলার রায় এবং সেগুলো দেওয়ার প্রক্রিয়া নতুন করে পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। তবে সব রায় পুনর্বিবেচনার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সোমবারের আদেশের দিকে নজর
শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত মামলায় রায় গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, অভিযোগের বিষয়ে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেন এবং সংশ্লিষ্ট রায়গুলো পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আগামী সোমবার এ বিষয়ে আদেশ দেবেন সর্বোচ্চ আদালত। ওই আদেশের পর আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।






















