‘ইয়াং ফিজিশিয়ান লিডার’ নির্বাচিত হলেন ডা. সৈয়দা ফাতেমা আলম
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৭৭০ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন চিকিৎসক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দা ফাতেমা আলম। ২০২৬ সালের ‘ইয়াং ফিজিশিয়ান লিডার্স’ (YPL) প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এ বছর মাত্র ২৩ জন তরুণ চিকিৎসক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।
ইন্টারঅ্যাকাডেমি পার্টনারশিপ (IAP), দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস (TWAS) এবং জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর (UNESCO) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ কর্মসূচির লক্ষ্য তরুণ চিকিৎসকদের নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে তাঁদের সম্পৃক্ত করা।
২০১১ সাল থেকে পরিচালিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিষয়ক অ্যাকাডেমির মনোনয়নের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত চিকিৎসকেরা নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। গত ১৭ বছরে এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৮০ জনের বেশি তরুণ চিকিৎসক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
এবারের ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ডা. সৈয়দা ফাতেমা আলম। সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে আগাম বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
ডা. ফাতেমা মনে করেন, একটি কার্যকর ও টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে মানসিক স্বাস্থ্যকে স্বাস্থ্যনীতির মূল কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিনিয়োগ ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিক্ষা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা
ডা. সৈয়দা ফাতেমা আলম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর (এমপিএইচ) ডিগ্রি অর্জন করেন। মনোরোগবিদ্যায় উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। এ ছাড়া দুর্যোগ ও সংকটকালীন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটি থেকে প্রশিক্ষণ এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে ‘লিডারশিপ ইন মেডিসিন’ কোর্স সম্পন্ন করেন।
নারীদের উচ্চশিক্ষায় অবদান রাখা এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে তিনি মেন্টাল ওয়েলনেস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি বেস কেয়ার ফাউন্ডেশনের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
পেশাগত জীবনে ডা. ফাতেমা রয়্যাল সোসাইটি ফর পাবলিক হেলথের ফেলো, ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশনের (IHME) গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এবং আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তরুণ চিকিৎসকদের নেতৃত্ব বিকাশের এ কর্মসূচিতে তাঁর নির্বাচন বাংলাদেশের চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য আলোচনায় মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকারকে আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করেছে।

















