মহাঅষ্টমীর পূজায় ভক্তদের ঢল, আকর্ষণের কেন্দ্রে কুমারী পূজা
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী শেষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) উদযাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী। এ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে মন্দিরে চলছে পূজা-অর্চনা। সকাল থেকেই ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। মহাঅষ্টমীর অন্যতম আকর্ষণ কুমারী পূজাকে ঘিরেও ভক্তদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
সোমবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও দেবীর আরাধনায় মুখর হয়ে ওঠে মন্দির এলাকা। পূজা শেষে দুপুরে ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণের কথা রয়েছে।
রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পূজা
মহাঅষ্টমী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা কুমারী পূজা। দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার এটি। এ পূজায় একজন কুমারী বালিকার মধ্যে দেবী দুর্গার মাতৃরূপ কল্পনা করে তাঁকে দেবীজ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী নারীকে পবিত্রতা, শক্তি ও মাতৃসত্তার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই মহাঅষ্টমীর দিনে কুমারী পূজার মাধ্যমে নারীর মধ্যে দেবীশক্তির উপস্থিতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন পূজারিরা।
শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা ও ভাবধারায় কুমারী পূজার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই পূজার মূল উদ্দেশ্য হলো কুমারীর মধ্যে জগজ্জননীর রূপ উপলব্ধি করা এবং মাতৃভাবের আরাধনা করা।
কীভাবে করা হয় কুমারী পূজা
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অবিবাহিত কন্যাকে কুমারী পূজার জন্য নির্বাচন করা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত কুমারীকে দেবীর প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়।
পূজার দিন সকালে কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন অলংকারে সাজিয়ে কপালে সিঁদুর ও পায়ে আলতা পরানো হয়। হাতে দেওয়া হয় ফুল। পরে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাচারের মাধ্যমে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়।
এ সময় মন্দির প্রাঙ্গণে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বাদ্য, উলুধ্বনি ও দেবীস্তোত্রে সৃষ্টি হয় এক পবিত্র পরিবেশ। ভক্তরা কুমারীকে প্রণাম করে আশীর্বাদ কামনা করেন।
বয়সভেদে কুমারীর বিভিন্ন নাম
শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী, বয়সভেদে কুমারীর বিভিন্ন নাম রয়েছে। এক বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা, দুই বছর বয়সীকে সরস্বতী, তিন বছর বয়সীকে ত্রিধামূর্তি, চার বছর বয়সীকে কলিকা এবং পাঁচ বছর বয়সীকে সুভাগা বলা হয়।
একইভাবে ছয় বছর বয়সে উমা, সাত বছরে মালিনী, আট বছরে কুব্জিকা, নয় বছরে কালসন্দর্ভা, দশ বছরে অপরাজিতা, ১১ বছরে রুদ্রাণী, ১২ বছরে ভৈরবী, ১৩ বছরে মহালক্ষ্মী, ১৪ বছরে পীঠনায়িকা, ১৫ বছরে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছরে অন্নদা নামে অভিহিত করা হয়।
সন্ধিপূজারও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব
মহাঅষ্টমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হলো সন্ধিপূজা। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিটের সন্ধিক্ষণে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময়েই দেবী দুর্গা চণ্ড ও মুণ্ড নামের অসুরকে বধ করেছিলেন। তাই সন্ধিপূজাকে দুর্গোৎসবের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মহাঅষ্টমী উপলক্ষে পূজা-অর্চনা, কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার কাছে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের আবহে দিনটি উদযাপন করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।























