০১:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে তিনি প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন।

সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় উদ্যানের পাশে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ শহীদের নাম

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। এ ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভের সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। ভেতরের দিকে রয়েছে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু আরেকটি রিলিফ ভাস্কর্য।

এসব ভাস্কর্যে বাংলাদেশের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৩ একরজুড়ে আধুনিকায়ন ওসমানী উদ্যান

রাজধানীর পুরোনো ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আয়তন প্রায় ২৩ একর। নাগরিকদের জন্য সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যানটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে। ফলে উদ্যানটিতে সবুজ পরিবেশ ও জলাশয়কেন্দ্রিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যানের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ। পাশাপাশি রয়েছে ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট। দর্শনার্থীদের সুবিধার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা।

দুই স্তরে সাজানো হয়েছে উদ্যানটি। সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে রাখা হয়েছে দ্রুত চলাচলের পথ। এতে উদ্যানের বিভিন্ন অংশে চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্মৃতি সংরক্ষণ ও নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়নের প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশের উন্নয়ন। স্মৃতিস্তম্ভটি দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। অন্যদিকে আধুনিকায়নকৃত উদ্যানটি নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

দুটি প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি রাজধানীতে সবুজ উন্মুক্ত স্থান ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ সামনে এসেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১২:০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে তিনি প্রকল্প দুটির উদ্বোধন করেন।

সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আধুনিকায়নকৃত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় উদ্যানের পাশে স্থাপিত গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ শহীদের নাম

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে লেজার কাটিংয়ের মাধ্যমে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ জন শহীদের নাম। এ ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভের সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের দিকে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে চার ফুট উঁচু রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে। ভেতরের দিকে রয়েছে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে সাত ফুট উঁচু আরেকটি রিলিফ ভাস্কর্য।

এসব ভাস্কর্যে বাংলাদেশের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

২৩ একরজুড়ে আধুনিকায়ন ওসমানী উদ্যান

রাজধানীর পুরোনো ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আয়তন প্রায় ২৩ একর। নাগরিকদের জন্য সবুজ, নিরাপদ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যানটিকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।

আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণ এবং সবুজ দ্বীপ তৈরি করা হয়েছে। ফলে উদ্যানটিতে সবুজ পরিবেশ ও জলাশয়কেন্দ্রিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উদ্যানের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ। পাশাপাশি রয়েছে ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং সুবিধা এবং জলাশয়ের ঘাট। দর্শনার্থীদের সুবিধার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা।

দুই স্তরে সাজানো হয়েছে উদ্যানটি। সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে রাখা হয়েছে দ্রুত চলাচলের পথ। এতে উদ্যানের বিভিন্ন অংশে চলাচলের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

স্মৃতি সংরক্ষণ ও নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের উদ্যোগ

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং ওসমানী উদ্যান আধুনিকায়নের প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশের উন্নয়ন। স্মৃতিস্তম্ভটি দেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। অন্যদিকে আধুনিকায়নকৃত উদ্যানটি নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও অবসর কাটানোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

দুটি প্রকল্পের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি রাজধানীতে সবুজ উন্মুক্ত স্থান ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ সামনে এসেছে।