০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ওয়ান্ডারল্যান্ডের গ্রাহকদের ট্র্যাকিং সেবার দায়িত্বে ডুপনো ট্র্যাকার

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫২৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনস লিমিটেডের বিদ্যমান ফ্লিট গ্রাহকদের ভেহিকল ট্র্যাকিং সেবা পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে ডুপনো ট্র্যাকার। গত ১৩ অক্টোবর দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে।

ডুপনো ট্র্যাকার পরিচালনা করে ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। চুক্তির আওতায় ওয়ান্ডারল্যান্ডের গ্রাহকদের জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং, যানবাহন পর্যবেক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও গ্রাহকসেবা — সবই পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।

পটভূমি: লাইসেন্স সমর্পণের পর ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনস দেশের পরিচিত জিপিএস ট্র্যাকিং সেবাদাতাদের একটি। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০২৫ সালে সেই লাইসেন্স সমর্পণ করে।

এখানেই চুক্তিটির মূল তাৎপর্য। ট্র্যাকিং সেবা কেবল একটি যন্ত্র নয় — এর পেছনে থাকে সার্ভার, মোবাইল নেটওয়ার্ক আর নিরবচ্ছিন্ন কারিগরি সহায়তা। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সরে গেলে গ্রাহকের গাড়িতে বসানো যন্ত্র থেকে গেলেও সেবা থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তিতে ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মেজবা উল হক, আর ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনসের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম মাশফিকুর রহমান। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অংশীদারত্বের সবচেয়ে কঠিন অংশটি কারিগরি। ওয়ান্ডারল্যান্ডের গ্রাহকেরা এখন যে সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন, সেখান থেকে ডুপনো ট্র্যাকারের প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে — আর সেই স্থানান্তরের সময় সেবায় কোনো বিরতি না রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডুপনো ট্র্যাকারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মেজবা উল হক বলেন, “এটি একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব, আর এর মূল চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তিগত। বিদ্যমান সেবা সচল রেখে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ব্যবহারকারীর তথ্য স্থানান্তর করা জটিল কাজ। ডিভাইস সংযোগ, সার্ভার সমন্বয়, তথ্যের নির্ভুলতা — প্রতিটি ধাপ আলাদা পরিকল্পনায় করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু একটি গ্রাহক পোর্টফোলিও বুঝে নিচ্ছি না। ওয়ান্ডারল্যান্ডের বহরে থাকা হাজার হাজার গ্রাহককে পরিকল্পিতভাবে মাইগ্রেশনের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে সেবার ধারাবাহিকতা অটুট রেখেই তাঁরা নতুন প্ল্যাটফর্মের সুবিধা পান।”

গ্রাহকের তথ্য স্থানান্তর, সেবার ধারাবাহিকতা আর প্রয়োজনীয় কারিগরি সমন্বয়ে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

চুক্তির আরেকটি দিক কর্মসংস্থান। ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনসের ট্র্যাকিং সেবায় যুক্ত সব টেকনিশিয়ান ও সাপোর্ট স্টাফ এখন ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ এই হস্তান্তরে কারও চাকরি যাচ্ছে না।

ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম মাশফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের ট্র্যাকিং সেবায় যাঁরা কাজ করেছেন — টেকনিশিয়ান থেকে সাপোর্ট স্টাফ পর্যন্ত সবাই — আজ থেকে ডুপনোর কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। এই হস্তান্তরের ফলে কোনো ধরনের বেকারত্ব তৈরি হচ্ছে না, কারও চাকরি যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “এই দলটিই বছরের পর বছর আমাদের গ্রাহকদের গাড়িতে যন্ত্র বসিয়েছে, সমস্যা হলে সারিয়েছে। যে টেকনিশিয়ান একটি গাড়ির যন্ত্রটি নিজের হাতে বসিয়েছেন, তিনিই এখন ডুপনোর হয়ে সেটির দেখভাল করবেন। গ্রাহকের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় ভরসা — প্ল্যাটফর্ম বদলালেও মানুষগুলো পরিচিত থাকছে।”

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেক প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের ট্র্যাকিং সরানোর কাজটি দেশে খুব বেশি হয়নি। সফল হলে এটি জিপিএস ট্র্যাকিং খাতে কারিগরি সক্ষমতা ও পরিচালনাগত সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ২০১৮ সাল থেকে বিটিআরসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভিটিএস প্রতিষ্ঠান এবং বিআরটিএর এপিআই-সংযুক্ত তালিকাভুক্ত। লাইসেন্স ও সনদের তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সার্টিফিকেশন পাতায় উন্মুক্ত রয়েছে।

বর্তমান চুক্তিকে ভিত্তি ধরে ভেহিকল ট্র্যাকিং, টেলিম্যাটিক্স ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় যৌথভাবে নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র অনুসন্ধানে আগ্রহী দুই প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ অংশীদারত্বটি কেবল একটি গ্রাহকবহর হস্তান্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার দিকেই এগোচ্ছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ওয়ান্ডারল্যান্ডের গ্রাহকদের ট্র্যাকিং সেবার দায়িত্বে ডুপনো ট্র্যাকার

আপডেট সময় : ১০:২৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনস লিমিটেডের বিদ্যমান ফ্লিট গ্রাহকদের ভেহিকল ট্র্যাকিং সেবা পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছে ডুপনো ট্র্যাকার। গত ১৩ অক্টোবর দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে।

ডুপনো ট্র্যাকার পরিচালনা করে ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড। চুক্তির আওতায় ওয়ান্ডারল্যান্ডের গ্রাহকদের জন্য জিপিএস ট্র্যাকিং, যানবাহন পর্যবেক্ষণ, কারিগরি সহায়তা ও গ্রাহকসেবা — সবই পরিচালনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।

পটভূমি: লাইসেন্স সমর্পণের পর ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনস দেশের পরিচিত জিপিএস ট্র্যাকিং সেবাদাতাদের একটি। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০২৫ সালে সেই লাইসেন্স সমর্পণ করে।

এখানেই চুক্তিটির মূল তাৎপর্য। ট্র্যাকিং সেবা কেবল একটি যন্ত্র নয় — এর পেছনে থাকে সার্ভার, মোবাইল নেটওয়ার্ক আর নিরবচ্ছিন্ন কারিগরি সহায়তা। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সরে গেলে গ্রাহকের গাড়িতে বসানো যন্ত্র থেকে গেলেও সেবা থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চুক্তিতে ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মেজবা উল হক, আর ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনসের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম মাশফিকুর রহমান। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অংশীদারত্বের সবচেয়ে কঠিন অংশটি কারিগরি। ওয়ান্ডারল্যান্ডের গ্রাহকেরা এখন যে সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন, সেখান থেকে ডুপনো ট্র্যাকারের প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে — আর সেই স্থানান্তরের সময় সেবায় কোনো বিরতি না রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডুপনো ট্র্যাকারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মেজবা উল হক বলেন, “এটি একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব, আর এর মূল চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তিগত। বিদ্যমান সেবা সচল রেখে বিপুলসংখ্যক যানবাহন ও ব্যবহারকারীর তথ্য স্থানান্তর করা জটিল কাজ। ডিভাইস সংযোগ, সার্ভার সমন্বয়, তথ্যের নির্ভুলতা — প্রতিটি ধাপ আলাদা পরিকল্পনায় করতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু একটি গ্রাহক পোর্টফোলিও বুঝে নিচ্ছি না। ওয়ান্ডারল্যান্ডের বহরে থাকা হাজার হাজার গ্রাহককে পরিকল্পিতভাবে মাইগ্রেশনের আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে সেবার ধারাবাহিকতা অটুট রেখেই তাঁরা নতুন প্ল্যাটফর্মের সুবিধা পান।”

গ্রাহকের তথ্য স্থানান্তর, সেবার ধারাবাহিকতা আর প্রয়োজনীয় কারিগরি সমন্বয়ে দুই প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

চুক্তির আরেকটি দিক কর্মসংস্থান। ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনসের ট্র্যাকিং সেবায় যুক্ত সব টেকনিশিয়ান ও সাপোর্ট স্টাফ এখন ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। অর্থাৎ এই হস্তান্তরে কারও চাকরি যাচ্ছে না।

ওয়ান্ডারল্যান্ড আইটি সলিউশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি এম মাশফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের ট্র্যাকিং সেবায় যাঁরা কাজ করেছেন — টেকনিশিয়ান থেকে সাপোর্ট স্টাফ পর্যন্ত সবাই — আজ থেকে ডুপনোর কর্মী হিসেবে কাজ করবেন। এই হস্তান্তরের ফলে কোনো ধরনের বেকারত্ব তৈরি হচ্ছে না, কারও চাকরি যাচ্ছে না।”

তিনি আরও বলেন, “এই দলটিই বছরের পর বছর আমাদের গ্রাহকদের গাড়িতে যন্ত্র বসিয়েছে, সমস্যা হলে সারিয়েছে। যে টেকনিশিয়ান একটি গাড়ির যন্ত্রটি নিজের হাতে বসিয়েছেন, তিনিই এখন ডুপনোর হয়ে সেটির দেখভাল করবেন। গ্রাহকের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় ভরসা — প্ল্যাটফর্ম বদলালেও মানুষগুলো পরিচিত থাকছে।”

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক প্ল্যাটফর্ম থেকে আরেক প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের ট্র্যাকিং সরানোর কাজটি দেশে খুব বেশি হয়নি। সফল হলে এটি জিপিএস ট্র্যাকিং খাতে কারিগরি সক্ষমতা ও পরিচালনাগত সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।

ডুপনো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ২০১৮ সাল থেকে বিটিআরসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত ভিটিএস প্রতিষ্ঠান এবং বিআরটিএর এপিআই-সংযুক্ত তালিকাভুক্ত। লাইসেন্স ও সনদের তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সার্টিফিকেশন পাতায় উন্মুক্ত রয়েছে।

বর্তমান চুক্তিকে ভিত্তি ধরে ভেহিকল ট্র্যাকিং, টেলিম্যাটিক্স ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় যৌথভাবে নতুন ব্যবসায়িক ক্ষেত্র অনুসন্ধানে আগ্রহী দুই প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ অংশীদারত্বটি কেবল একটি গ্রাহকবহর হস্তান্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার দিকেই এগোচ্ছে।