০২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তির নতুন সম্ভাবনা

আবুবকর ছিদ্দিক, বান্দরবান
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৬৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান এবং স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় নবগঠিত তিন কমিটিকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। একই সঙ্গে পাহাড়ে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের রিস্বংস্বং রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। তিনি সরকারের নেওয়া উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিন কমিটিকে কার্যকর করার আহ্বান

কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে হবে। বৈষম্যহীন পরিবেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাও জরুরি।

তিনি বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হবে না। জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটিকে বাস্তবমুখী ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তার ভাষ্য, সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার পথ আরও সহজ হবে।

পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব

নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের জন্য বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তার মতে, জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিতভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে এসব কমিটি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাজী মো. মজিবর রহমান আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অতীতে কোনো সরকার নেয়নি বলে তারা মনে করেন। তাই এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্টরা সাহসিকতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন। শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি সব মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পাহাড়ের মানুষের কথা এবং বাস্তব সমস্যা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনাও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নবগঠিত তিন কমিটিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তির নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০১:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধান এবং স্থায়ী শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় নবগঠিত তিন কমিটিকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। একই সঙ্গে পাহাড়ে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বান্দরবান শহরের রিস্বংস্বং রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান। তিনি সরকারের নেওয়া উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিন কমিটিকে কার্যকর করার আহ্বান

কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে হবে। বৈষম্যহীন পরিবেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাও জরুরি।

তিনি বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই পাহাড়ের সমস্যার সমাধান হবে না। জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটিকে বাস্তবমুখী ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তার ভাষ্য, সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হলে পাহাড়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার পথ আরও সহজ হবে।

পারস্পরিক আস্থার ওপর গুরুত্ব

নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের জন্য বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

তার মতে, জাতীয়, নির্বাহী ও পরামর্শক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমন্বিতভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে এসব কমিটি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাজী মো. মজিবর রহমান আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ অতীতে কোনো সরকার নেয়নি বলে তারা মনে করেন। তাই এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্টরা সাহসিকতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করবেন। শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি সব মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা ও সম্ভাবনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, পাহাড়ের মানুষের কথা এবং বাস্তব সমস্যা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনাও গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নবগঠিত তিন কমিটিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি পাহাড়ের সব সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।