দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
দেশকে পুনর্গঠনে তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ একসঙ্গে পরিবর্তনের জন্য কাজ করলে কেউ তাদের থামিয়ে রাখতে পারবে না।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণদের শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে স্কাউটের সদস্য প্রায় ২৩ লাখ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। এ ছাড়া দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪ কোটি।
তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি দেশকে পুনর্গঠনের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে চায়, তাহলে তাদের কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।
তারেক রহমান বলেন, এখন তরুণদের দায়িত্ব নিতে হবে। কীভাবে দেশকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। দেশ গড়ার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।
তিনি বলেন, একটি দেশের বড় তরুণ সমাজ পরিবর্তন চাইলে সেই পরিবর্তন সম্ভব। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তরুণ সমাজ তাদের শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। সেখান থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।
তিন মাস ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এতে শতভাগ সফলতা হয়তো পাওয়া যাবে না। তবে সম্মিলিত উদ্যোগে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডেঙ্গুর অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কথা উল্লেখ করেন। ভাঙা পাত্র, বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী ও ময়লা-আবর্জনায় পানি জমে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে।
এ কারণে সবাইকে নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সপ্তাহে এক ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতায় সময় দেওয়ার আহ্বান
তারেক রহমান বলেন, পরিচ্ছন্নতার কাজ খুব কঠিন নয়। শুরুতে কিছুটা কষ্ট হলেও প্রতি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা সময় দিলে বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখা সম্ভব।
তিনি বলেন, সবাই নিয়মিতভাবে নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে দ্রুত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা থেকে অন্যদেরও বিরত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠে বা রাস্তায় টিস্যু, পানির বোতল কিংবা অন্যান্য ময়লা ফেলে দিলে হয়তো কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু এভাবে ময়লা জমতে থাকলে পরিবেশ নষ্ট হবে। একই সঙ্গে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়বে।
তিনি বলেন, কেউ ভাবতে পারেন, ময়লা-আবর্জনা দূরে থাকায় তার কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু সেই পরিবেশে নিজের পরিবারের কোনো সদস্য বা প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই নিজের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
রাষ্ট্র পুনর্গঠনে তরুণদের পাশে থাকার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়েছে কীভাবে পরিবর্তন আনতে হয়। এবার সেই তরুণদের রাষ্ট্র ও দেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, দেশকে পুনর্গঠন করতে চাইলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। সম্মিলিতভাবে কাজ করলে পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।






















