রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।
ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরলেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি বলেন, গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ইরানের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যেও দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে।
ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ ও জালাল উদ্দিন রুমির মতো পারস্যের কবি ও মনীষীদের সাহিত্য এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো জ্বালানি সংকটে পড়েছে।
সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দেশটির মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দার কথাও জানান তিনি।
বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।
অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর
সাক্ষাতে ইরানের রাষ্ট্রদূত দেশটির রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দনপত্র দেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান ইরানের রাষ্ট্রপতি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রপতি ইরানের রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাঁর দায়িত্বকাল দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরানি দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

























