দ্বিপক্ষীয়ের একঘেয়েমি কাটাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা
- আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ত্রিদেশীয় সিরিজ মানেই ছিল বাড়তি রোমাঞ্চ। তিন দলের লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে জড়িয়ে থাকত ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ। তবে ব্যস্ত সূচি, বাণিজ্যিক বাস্তবতা এবং দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটের আধিপত্যে ধীরে ধীরে কমে গেছে এমন আয়োজন।
এবার সেই পুরোনো উত্তেজনা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সূচি বা ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) নিয়ে ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের অপারেশনস দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলও এতে অংশ নেবে।
আর্থিকভাবে লাভজনক ত্রিদেশীয় সিরিজ
ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে এখন ধারণা বাড়ছে, দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আগের মতো সবসময় আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় নয়। এর বিপরীতে তিন বা তার বেশি দলকে নিয়ে আয়োজন করা সিরিজ ও টুর্নামেন্টে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বেশি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বাণিজ্যিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সময়ের হিসাবে দুই ধরনের সিরিজের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তিন ম্যাচের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ শেষ হতে যেখানে প্রায় ৭-৮ দিন লাগে, সেখানে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ হতে সময় লাগে ১০-১১ দিন।
তবে বাণিজ্যিক দিক থেকে ত্রিদেশীয় সিরিজ অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে। কারণ দর্শকরা একাধিক দলের ম্যাচ দেখার সুযোগ পান। এতে টিকিট বিক্রি বাড়ে। একই সঙ্গে স্পন্সরদের আগ্রহও বেশি থাকে। ফলে পুরো আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় বাড়তি উৎসাহ।
হারিয়ে গেছে পুরোনো আয়োজন
একসময় নিয়মিত আয়োজন করা হলেও বর্তমানে ত্রিদেশীয় ও চারজাতির সিরিজ প্রায় হারিয়েই গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নামিবিয়ায় স্বাগতিকদের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ চলছে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ত্রিদেশীয় সিরিজ হয়েছে মাত্র একটি। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাকিস্তানকে নিয়ে সেই সিরিজটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বাজার ভারতও এখন এমন সিরিজে খুব কম অংশ নেয়। ২০১১ বিশ্বকাপের পর ভারত চারটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছে। অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এসব সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশও বিভিন্ন সময়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়েছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ডকে নিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। ওই বছরই আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করে বাংলাদেশ।
এরপর ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে পাকিস্তান ও স্বাগতিকদের বিপক্ষে আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় টাইগাররা।
ব্যস্ত সূচিই বড় চ্যালেঞ্জ
ত্রিদেশীয় সিরিজ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচি। ২০২৭ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে একের পর এক আইসিসি ইভেন্ট রয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর শুরু হবে নতুন এফটিপি চক্র। ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৯ সালে ভারতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩০ সালে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত ও বাংলাদেশ।
এত ব্যস্ততার মধ্যেও বহুজাতিক সিরিজের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কারণ ওয়ানডে ক্রিকেটকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও দর্শকবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আইসিসির পক্ষ থেকেও দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজকে আরও অর্থবহ করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
ভাগাভাগি হতে পারে আয়
বহুজাতিক সিরিজ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্প্রচারস্বত্ব ও আয় ভাগাভাগির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সাধারণত আয়োজনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাগতিক বোর্ড। তবে ভবিষ্যতে এককভাবে স্বাগতিক দেশ সব বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে কি না, সেটি নিয়েও নতুন কাঠামো আসতে পারে।
সব মিলিয়ে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটের একঘেয়েমি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ত্রিদেশীয় ও বহুজাতিক সিরিজের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ২০২৭-৩১ এফটিপি নিয়ে আলোচনাতেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।























