বিশ্ব মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, আপত্তি যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় : ০১:০১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব মানচিত্রে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন আরও বাস্তবভাবে তুলে ধরতে নতুন মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটে ১৬৪টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
প্রস্তাবিত নতুন মানচিত্রটি ‘ইকুয়েল আর্থ কার্টোগ্রাফি প্রজেকশন’ নামে পরিচিত। জাতিসংঘের মতে, এই মানচিত্রে বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের আয়তন তুলনামূলকভাবে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
নতুন মানচিত্রে আফ্রিকাকে বর্তমান প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় বড় দেখা যাবে। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখাবে।
মার্কেটর প্রজেকশনের বিকল্প নতুন মানচিত্র
জাতিসংঘের প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত মার্কেটর প্রজেকশনের পরিবর্তে নতুন এই মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
১৫৬৯ সালে ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর মার্কেটর প্রজেকশন তৈরি করেন। মূলত নৌযাত্রা ও সামুদ্রিক নেভিগেশনের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল।
তবে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতিকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরার কারণে এতে বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তনে বিকৃতি দেখা যায়। বিশেষ করে মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলগুলো বাস্তবের তুলনায় বড় দেখায়।
‘মানচিত্র কখনও নিরপেক্ষ নয়’
নতুন মানচিত্র ব্যবহারের প্রস্তাবটি উত্থাপন করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসি মানচিত্রের প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, মানচিত্র শুধু ভৌগোলিক তথ্য উপস্থাপন করে না। এটি মানুষের শিক্ষা, কল্পনাশক্তি এবং পৃথিবী সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণাকেও প্রভাবিত করে।
ডুসির মতে, কোনো মানচিত্রই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত বিকৃত মানচিত্র প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের মধ্যে অসম বা ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
জাতিসংঘের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি
তবে জাতিসংঘের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ প্রস্তাবটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
মার্কিন প্রতিনিধির অভিযোগ, বিশ্বের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার পরিবর্তে জাতিসংঘ ১৬ শতকের মানচিত্র, ক্ষতিপূরণ এবং কগনিটিভ জাস্টিসের সঙ্গে মানচিত্রের সম্পর্কের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।
তবে জাতিসংঘের এই প্রস্তাবের সমর্থকেরা মনে করছেন, বিশ্ব সম্পর্কে মানুষের ধারণা তৈরিতে মানচিত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন আরও বাস্তবভাবে তুলে ধরার জন্য নতুন প্রজেকশন ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে।























