শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে গ্রেপ্তার, ৮ লাখ ডলার ঘুষের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১২:২২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসার ছেলে ও সংসদ সদস্য নামাল রাজাপাকসাকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ। ২০১৩ সালের একটি এয়ারবাস চুক্তিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুর্নীতি বা ঘুষের অভিযোগ তদন্তকারী কমিশন (সিআইএবিওসি) নামাল রাজাপাকসাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে। এরপর কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট আসঙ্গা বোদারাগামা তাকে আরও তদন্তের জন্য দুই সপ্তাহ আটক রাখার নির্দেশ দেন।
এয়ারবাস চুক্তিতে ঘুষের অভিযোগ
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ২৩০ কোটি ডলারের এয়ারবাস লেনদেন নিয়ে তদন্তের পর নামাল রাজাপাকসাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইএবিওসির দাবি, চুক্তিটি নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস শ্রীলঙ্কার কয়েকজন রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাকে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। এর অংশ হিসেবে নামাল রাজাপাকসা প্রায় ৮ লাখ ডলার গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।
আদালতে বলা হয়, এক শ্রীলঙ্কান ব্যবসায়ী সিঙ্গাপুরের দুটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে ওই অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।
নামাল রাজাপাকসার আইনজীবী নিশান্থা দয়ানন্দ জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত সেই আবেদন নাকচ করে দেন।
মাহিন্দা রাজাপাকসার বিরুদ্ধেও অভিযোগ
এর আগে গত মে মাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি। বিমান কেনার ঘটনায় তার বিরুদ্ধেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী কপিলা চন্দ্রসেনা মার্চে তদন্তকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্টকে প্রায় পাঁচ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছিলেন।
তবে মে মাসে পুনরায় গ্রেপ্তারের আগে চন্দ্রসেনাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
আন্তর্জাতিক তদন্তেও ঘুষের তথ্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষের যৌথ তদন্তে এয়ারবাসের ঘুষ কেলেঙ্কারির তথ্য আগেই উঠে আসে। তদন্তে জানা যায়, কেলেঙ্কারি প্রকাশের আগে শ্রীলঙ্কায় প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়েছিল।
এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ ডলার কপিলা চন্দ্রসেনার কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
আদালতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চন্দ্রসেনা প্রথমে তদন্তকারীদের জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে তিনি তিন কিস্তিতে নামাল রাজাপাকসাকে ৬০ কোটি রুপি দিয়েছিলেন। সে সময় ওই অর্থের মূল্য ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬১ হাজার ডলার।
তদন্তকারীরা এখন পুরো অর্থ লেনদেন এবং এয়ারবাস চুক্তিতে কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন।























