০৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য তিন জেলা পরিষদে দলীয়করণের অভিযোগ এনসিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই তিন জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ

বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এখানকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় জেলা পরিষদগুলোকে কার্যকর, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এনসিপির অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদে বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক মত, সামাজিক শক্তি ও সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব সীমিত রয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

দলটি বলছে, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা রয়েছে। তাই জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের বদলে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দ্রুত নির্বাচনের দাবি

এনসিপি বলছে, পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে একক রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হলে জনগণের আস্থা কমতে পারে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো আর কতদিন অনির্বাচিত ও মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। দলটির দাবি, ১৯৮৯ সালে আইন প্রণয়নের পর ওই বছর একবার নির্বাচন হলেও এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত নির্বাচন হয়নি। ফলে স্থানীয় জনগণের ভোটাধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব চায় এনসিপি

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকেও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ কেবল সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে। এটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের বিকল্প নয়।

এনসিপি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে দ্রুত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।

নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

এনসিপি আরও বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়। এটি এ অঞ্চলের সব মানুষের অধিকার। তাই জেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সব জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পার্বত্য তিন জেলা পরিষদে দলীয়করণের অভিযোগ এনসিপির

আপডেট সময় : ০১:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—এই তিন জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠনে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জেলা পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ

বিবৃতিতে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এখানকার সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বিবেচনায় জেলা পরিষদগুলোকে কার্যকর, জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এনসিপির অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলা পরিষদে বিএনপি ছাড়া অন্য রাজনৈতিক মত, সামাজিক শক্তি ও সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব সীমিত রয়েছে বলে দাবি করেছে দলটি।

দলটি বলছে, পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা রয়েছে। তাই জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্যের বদলে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, সততা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

দ্রুত নির্বাচনের দাবি

এনসিপি বলছে, পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে একক রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি হলে জনগণের আস্থা কমতে পারে। একই সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো আর কতদিন অনির্বাচিত ও মনোনীত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। দলটির দাবি, ১৯৮৯ সালে আইন প্রণয়নের পর ওই বছর একবার নির্বাচন হলেও এরপর দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত নির্বাচন হয়নি। ফলে স্থানীয় জনগণের ভোটাধিকার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

সব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব চায় এনসিপি

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোকেও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ কেবল সাময়িক ব্যবস্থা হতে পারে। এটি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিত্বের বিকল্প নয়।

এনসিপি খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে দ্রুত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।

নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে নিরপেক্ষতা, যোগ্যতা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

এনসিপি আরও বলেছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়। এটি এ অঞ্চলের সব মানুষের অধিকার। তাই জেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সব জনগোষ্ঠীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।