ক্যানসারের কাছে হার মানলেন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ গানের কিংবদন্তি ডলি পার্টন
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, গীতিকার ও সমাজসেবী ডলি পার্টন আর নেই। ৮০ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি মারা গেছেন। ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইঙ্গরাম ক্যানসার সেন্টারে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের পাশে নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বিশ্বখ্যাত শিল্পী।
ডলি পার্টনের মৃত্যুর খবর তার ভাগ্নে ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন। পরে তার অফিশিয়াল টিমও এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানায়।
ছয় দশকের বর্ণিল সংগীত ক্যারিয়ার
ডলি পার্টন ছয় দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন। কান্ট্রি সংগীতকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলতে তার অবদান অনন্য।
‘জোলিন’, ‘নাইন টু ফাইভ’ এবং ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’-এর মতো গান তাকে সংগীতের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।
১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘জোলিন’ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এর পরের বছর ১৯৭৪ সালে লেখা ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’ গানটি পরে ১৯৯২ সালে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে নতুন করে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলে।
১৯৮০ সালে প্রকাশিত ‘নাইন টু ফাইভ’ গানটি ১৯৮১ সালে মার্কিন পপ চার্টের শীর্ষে ওঠে। এছাড়া কেনি রজার্সের সঙ্গে গাওয়া ‘আইল্যান্ডস ইন দ্য স্ট্রিম’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও সফল
গানের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন ডলি পার্টন। ‘নাইন টু ফাইভ’, ‘দ্য বেস্ট লিটল ওয়ারহাউজ ইন টেক্সাস’ এবং ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’ সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি।
তার অভিনয় দক্ষতার জন্য একাধিকবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়নও পেয়েছেন এই শিল্পী।
শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ
১৯৪৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে জন্ম নেওয়া ডলি পার্টন ছিলেন ১২ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল।
মাত্র ১০ বছর বয়সে চার্চে গান গাওয়া শুরু করেন তিনি। ১৩ বছর বয়সে প্রথম গান রেকর্ড করেন এবং একই বছর ন্যাশভিলের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ওল অপরেতে গান পরিবেশন করেন।
১৯৬৪ সালে হাইস্কুল শেষ করে সংগীতের শহর ন্যাশভিলে পাড়ি জমান ডলি। শুরুতে গায়িকার চেয়ে গীতিকার হিসেবেই বেশি পরিচিতি পান তিনি।
ব্যবসা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদান
সংগীতের পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবেও সফল ছিলেন ডলি পার্টন। ১৯৮৬ সালে টেনেসির একটি থিম পার্কের মালিকানায় যুক্ত হন তিনি। পরে সেটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ডলিউড’, যা বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র।
সমাজসেবায়ও তার অবদান ছিল ব্যাপক। ১৯৯৫ সালে শুরু করেন ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে শিশুদের বিনামূল্যে বই দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত এই উদ্যোগের মাধ্যমে কোটি কোটি বই শিশুদের কাছে পৌঁছেছে।
এছাড়া দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ এবং বিভিন্ন মানবিক কাজে নিয়মিত সহায়তা করেছেন তিনি। ২০২০ সালে করোনার টিকা গবেষণায় ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে ১০ লাখ ডলার অনুদান দেন ডলি।
শেষ অ্যালবাম ও বিদায়
২০২৩ সালে প্রকাশিত ‘রকস্টার’ ছিল ডলি পার্টনের সর্বশেষ অ্যালবাম। চলতি বছরের মে মাসে শারীরিক অসুস্থতার কারণে লাস ভেগাসে নির্ধারিত কয়েকটি শো বাতিল করেন তিনি।
ডলি পার্টনের মৃত্যুতে বিশ্ব সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার গান, কণ্ঠ ও মানবিক কর্মকাণ্ড আগামী প্রজন্মের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
























