ভূমিহীন ও গৃহহীনদের স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা মহৎ উদ্দেশ্য এখন প্রশ্নবিদ্ধ
- আপডেট সময় : ১২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬৮ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ-২ এর উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা। কিন্তু কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় এই মহৎ উদ্দেশ্য এখন প্রশ্নবিদ্ধ। প্রভাবশালীদের যোগসাজশ আর প্রশাসনের তদারকির অভাবে বরাদ্দ পাওয়া ঘরগুলো এখন প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত গৃহহীনরা বঞ্চিত হলেও টাকার বিনিময়ে ঘর দখলে নিয়েছেন বিত্তবানর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানায়, যারা এধরনের কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গৃহহীনদের জন্য সরকারের দেওয়া মাথা গোঁজার ঠাঁই এখন ব্যবসার পণ্যে পরিণত হয়েছে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ৬ নং পূর্ব জোরকানন ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প এলাকায় এখন উৎসব চলছে ঘর বিক্রির। তিনটি প্লটে বরাদ্দ দেওয়া ১২৩টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০০টি ঘর এরই মধ্যে হাতবদল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ৮০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত কেনাবেচা হচ্ছে প্রতিটি ঘর। অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এই ঘর বিক্রি, ভাড়া বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মূলে রয়েছে কালু নামের এক মাদক ব্যবসায়ী, যার মধ্যস্থতায় প্রতিটি লেনদেনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা কমিশন পকেটে যাচ্ছে দালালের।
অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এদিকে ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন মিয়ার দাবি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে এই দালালচক্র।
আশ্রয়ণের ঘর বিক্রির এই মহোৎসব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তান্তর বা বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে এবং যারা বিক্রি করেছে তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত গৃহহীনদের দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি
সুজন চন্দ্র রায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সদর দক্ষিণ উপজেলা যাদের জন্য এই ঘর, তারা আজ ঠিকানাহীন; আর যাদের টাকা আছে, তারাই এখন আশ্রয়ণের মালিক। প্রশাসনের উদাসীনতা নাকি যোগসাজশ কোন কারণে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের এই বিশাল অর্জন প্রশ্নটি এখন কুমিল্লার সচেতন মহলের।
























