খাতুনগঞ্জে হালখাতায় নেই আগের জৌলুস
- আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫৭৮ বার পড়া হয়েছে
দেশের অন্যতম প্রধান পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র- চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। শুধু লাভ-ক্ষতির হিসাব নয়, উৎসবের রঙে নিজেদের রাঙাতে শত বছরের পুরনো এই ব্যবসা কেন্দ্রে ব্যবসায়ীরা বাংলা বছরের প্রথম দিনে আজও খোলেন লাল মলাটের হালখাতা। তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে হালখাতার সেই জৌলুস।
হালখাতায় সবাই যে বাকী টাকা পরিশোধ করে নাম তুলতে পারবেন– তা নয়। তবে সবাইকেই করা হয় নিমন্ত্রণ। বকেয়া থাকা ক্রেতা এলেও হাসিমুখে তুলে দেন মিষ্টি। পাওনা টাকা পরিশোধ করতে পারুক বা নাই-পারুক, ক্রেতা ধরে রাখতে বছর শুরুর দিনে একত্রে বসে মিষ্টি মুখ করান সবাইকে। একসময় হালখাতা খোলার উদ্দেশ্যই ছিল এটি। কিন্তু বিশ্বায়নের ডামাডোলে হালখাতার রেওয়াজ আজ বিলুপ্তপ্রায়।
পাইকারী ক্রেতাদের একের পর এক চেক প্রতারণা, বিশ্বাস ভঙ্গ, অর্থনৈতিক মন্দা, বৃহৎ আমদানীকারক সিণ্ডিকেট আর ব্যাংকের দাপটে চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে এখন আর সেভাবে হয় না হালখাতা উৎসব। তাছাড়া যুগের চাহিদায় প্রযুক্তির কারণেও এসেছে নানা পরিবর্তন। তারপরও পুরনো সেই সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে লালন করার চেষ্টায় অনেক ব্যবসায়ী।
সময় আর চাহিদার পাশাপাশি প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং ব্যাংকের দাপটে হালখাতায় ভাটা পড়েছে বলে মনে করেন অনেকে।
জৌলুস থাকুক আর নাই থাকুক, চৈত্রের শেষদিনে সকল বাকী হিসাব চুকিয়ে বন্ধ হয় পুরনো লালখাতা। আর বৈশাখের প্রথম দিনে উন্মোচন হয় নতুন সম্ভাবনার। যেখানে যাপিত জীবনের গ্লানি মুছে আশায় ফোটে আলোর বুনন।




















