৩ নভেম্বরের আগে ইরানে হামলা নয়, আলোচনায় আশাবাদী ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০১:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫২৯ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বর দেশটির কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের দাবি, অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় দিক থেকেই ইরান দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। দেশটির ওপর আরোপিত অবরোধও পূর্ণমাত্রায় কার্যকর থাকবে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হলেও সেই তেলের কোনো অংশ ইরান থেকে আসছে না বা দেশটিতে যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে চাপে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতেও পড়েছে। বিভিন্ন জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনে চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদেরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিনি ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান দলের সদস্য ও সমর্থকেরাও রয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মার্কিন ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য বারবার বলেছেন, নির্বাচনের পর তেলের দাম কমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়ে এখনো কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেননি তিনি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা, ইউরেনিয়ামে অনড় ইরান
যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করবে না। একই সঙ্গে তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ অন্য কোথাও হস্তান্তর করতেও রাজি নয় দেশটি। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা অর্থবহ মাত্রায় কমিয়ে আনতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ অবস্থায় একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত রাখা, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটানো—দুই দিকেই নজর দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সূত্র: রয়টার্স




















