রাস্তার নিয়ম বদলাচ্ছে—মানুষ কি প্রস্তুত?
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫২৮ বার পড়া হয়েছে
আমস্টার-ডামের খালের ধারের সরু রাস্তা ধরে যখন কিস রো-লান্ড-শাপ শহরের অসংখ্য সাইকেল আরোহীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কী ভিন্নতা তা বুঝতে তার এক মুহূর্ত সময় লাগল: তার গাঢ় ধূসর টেসলা গাড়িটির স্টিয়ারিং হুইলে তার হাত নেই।
মার্কিন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ১০ই এপ্রিল নেদারল্যান্ডসে তাদের সুপারভাইজড ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (FSD) সিস্টেমের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত অনুমোদন লাভ করে। শহরের রাস্তার জন্য এটি ইউরোপে প্রথম, যা ইউরোপে আরও প্রায়-স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের পথ খুলে দিতে পারে।
রো-লান্ড-শাপের মতো উৎসাহীরা এটিকে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার এবং সাধারণ গাড়ি চালানোর চেয়েও নিরাপদ বলে প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে দেশের আঁকাবাঁকা রাস্তায় গাড়িগুলো চলতে শুরু করায় কিছু সাইকেল আরোহী ও রাজনীতিবিদদের মধ্যে সতর্কতা এবং আশাবাদের মিশ্র অনুভূতি দেখা যাচ্ছে।
রো-লান্ড-শাপ রয়টার্সকে বলেন যে নেদারল্যান্ডসে তার টেসলা গাড়িটি সেলফ-ড্রাইভিং মোডে ব্যবহার করতে পারাটা তার কাছে “অবাস্তব” মনে হয়েছে। তিনি আরও বলেন যে, ইউরোপের সর্বত্র এই সফটওয়্যারটি অনুমোদন করা উচিত, কারণ তিনি নিশ্চিত যে এটি সড়কে নিরাপত্তা বাড়াবে এবং ফলস্বরূপ মারাত্মক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনবে।
টেসলার এফ-এস-ডি সিস্টেম স্টিয়ারিং হুইলে হাত না রেখেই গাড়ি চালাতে, ব্রেক করতে এবং গতি বাড়াতে পারে, যদিও একজন চালককে অবশ্যই মনোযোগী থাকতে হবে এবং হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
আম-স্টার-ডামের রাস্তায়, যেখানে ট্রাম, ট্রাক এবং টেসলার মতো বড় গাড়ির পাশাপাশি বাইক, কার্গো বাইক, ই-বাইক, বিশাল ‘ফ্যাটবাইক’ এবং ক্রমবর্ধমান ছোট ই-গাড়ির বহর চলাচল করে, সেখানে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র।
সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা সিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৬% বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ৭৫৯-এ দাঁড়িয়েছে, যার প্রধান কারণ হলো গাড়ি-সাইকেল আরোহী এবং গাড়ি-পথচারী সংঘর্ষ।
টেসলা যখন ইউরোপে মন্থর হয়ে পড়া বিক্রিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ড্রাইভার-সহায়ক সফটওয়্যারের ওপর বাজি ধরছে, ঠিক তখনই এই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। নেদারল্যান্ডসে টেসলা সবচেয়ে জনপ্রিয় বৈদ্যুতিক গাড়ি; দেশটির প্রায় ১ লক্ষ মডেল ৩ এবং মডেল ওয়াই গাড়ি রাস্তায় চলাচল করে।
স্টিয়ারিংয়ে হাত ছাড়াই এগিয়ে চলা এক গাড়ির রূপে। Tesla-র এই প্রযুক্তি শুধু এক নতুন সুবিধা নয়, বরং এক প্রশ্ন—মানুষ কি নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে প্রযুক্তির ওপর আস্থা রাখতে প্রস্তুত?


























