যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন, ট্রাম্পের বড় পরীক্ষা
- আপডেট সময় : ১০:২১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ—সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি এবং বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে এ নিয়ে চলছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
নির্বাচনকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষেও রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ চলবে। এরই মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। আগাম ভোটের এই সংখ্যা নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস দুই কক্ষ নিয়ে গঠিত। এর উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ। বর্তমানে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য হলো কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া।
ভোটের আগে প্রকাশিত একাধিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনের অবস্থান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। তবে জরিপের ফলাফলই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করে না। ভোটার উপস্থিতি, অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতিও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। প্রেসিডেন্টের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নতুন আইন পাস, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে রিপাবলিকান প্রশাসনকে।
তদন্ত ও নজরদারি বাড়াতে পারে ডেমোক্র্যাটরা
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের তদন্ত ও নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্ত, সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে শুনানি ও তদন্ত আয়োজন করতে পারবেন আইনপ্রণেতারা।
এ ছাড়া প্রতিনিধি পরিষদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্ব পরিবর্তিত হতে পারে। এর ফলে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনগত ও নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
শুধু কংগ্রেস নয়, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তারও পরীক্ষা
মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের কর্মকাণ্ডের ওপর ভোটারদের মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে এবারের নির্বাচন ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোটারদের মনোভাব বোঝার সুযোগ তৈরি করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল শুধু কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে না, বরং আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, বাজেট এবং নীতিনির্ধারণে দুই দলের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর।
এখন ভোটগ্রহণ শেষে গণনা ও ফল ঘোষণার অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহল।




















