কাবাডিতে পদক হাতছাড়া, কোচ-খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন
- আপডেট সময় : ০২:০১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৮ বার পড়া হয়েছে
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অন্যতম সফল ডিসিপ্লিন কাবাডি। দুই দশক পর পদক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে জাপানের কাছে হারের পর সেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অন্য ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করেও সমীকরণ মেলেনি। ফলে পদক ছাড়াই এশিয়ান গেমস থেকে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ পুরুষ কাবাডি দলকে।
জটিল সমীকরণে বাদ বাংলাদেশ
কাবাডিতে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে ছিল স্বাগতিক জাপান, ভারত, চাইনিজ তাইপে ও দক্ষিণ কোরিয়া। ভারত চার ম্যাচেই জয় পেয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া সব ম্যাচে হেরেছে।
জাপান, চাইনিজ তাইপে ও বাংলাদেশ দুটি করে ম্যাচ জেতায় তিন দলেরই পয়েন্ট দাঁড়ায় ৪। ফলে গ্রুপের রানার্সআপ নির্ধারণে জটিল সমীকরণ তৈরি হয়।
টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী, কোনো দল মোট পয়েন্টের ২৫ শতাংশ না পেলে সেই দলের বিপক্ষে ম্যাচের পয়েন্ট গ্রুপের হিসাবের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে না। দক্ষিণ কোরিয়া কোনো ম্যাচে পয়েন্ট না পাওয়ায় তাদের বিপক্ষে ম্যাচ বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়।
বাংলাদেশ ভারত, চাইনিজ তাইপে ও জাপানের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ১১০ পয়েন্ট অর্জন করে। বিপরীতে প্রতিপক্ষের কাছে দিয়েছে ১৩৫ পয়েন্ট। ফলে বাংলাদেশের পয়েন্ট ব্যবধান দাঁড়ায় -২৫।
চাইনিজ তাইপের কাছে পিছিয়ে বাংলাদেশ
তিন দলের পারস্পরিক ম্যাচের হিসাবেও এগিয়ে যায় চাইনিজ তাইপে। তারা ১০২ পয়েন্ট অর্জনের বিপরীতে ১১৫ পয়েন্ট দিয়েছে। তাদের ব্যবধান -১৩।
ভারতের বিপক্ষে চাইনিজ তাইপে ৩৭-২১ পয়েন্টে হেরেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের হার ছিল ৪৮-২৫ পয়েন্টে। ভারতের কাছে বেশি ব্যবধানে হারায় গ্রুপের হিসাবেও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
এদিকে স্বাগতিক জাপান দক্ষিণ কোরিয়াকে ৬৫-৩২ পয়েন্টে হারায়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ম্যাচ হিসাবের বাইরে থাকায় সেই জয় কাজে আসেনি। জাপান বাংলাদেশ, ভারত ও চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে তিন ম্যাচে ৯৪ পয়েন্ট অর্জন করে এবং ১২০ পয়েন্ট দেয়। ফলে তাদের ব্যবধান দাঁড়ায় -২৬।
জাপান ম্যাচে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের অভিযোগ
পদকের খুব কাছে গিয়ে ছিটকে পড়ার কারণ হিসেবে জাপান ম্যাচের পারফরম্যান্সকে দেখছেন কোচ আব্দুল জলিল। তার মতে, জাপানের কাছে হারার কারণেই মূলত সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়।
কোচ বলেন, চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে আরও কিছু পয়েন্ট নিয়ে জিততে পারলে এবং ভারতের কাছে কম ব্যবধানে হারলে বাংলাদেশের সমীকরণ ভিন্ন হতে পারত। এমনকি ভারত চাইনিজ তাইপেকে আরও বড় ব্যবধানে হারালেও বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠতে পারত।
চাইনিজ তাইপেকে হারানোর পর বাংলাদেশ দল ও কর্মকর্তাদের উদযাপন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ তখনও বাকি ছিল। কিন্তু ওই জয়ের পরই কর্মকর্তাদের পতাকা নিয়ে উদযাপন করতে দেখা যায়।
কোচ আব্দুল জলিল স্বীকার করেছেন, চাইনিজ তাইপে ম্যাচের জয়ের বহিঃপ্রকাশ অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছিল। তার মতে, জাপান ম্যাচে বাংলাদেশের ডিফেন্স বড় সমস্যা তৈরি করে।
প্রস্তুতি ও কোচিং নিয়েও প্রশ্ন
কাবাডি দলের প্রস্তুতি ও কোচিং নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইসরাইল হাওলাদার জানিয়েছেন, কয়েকজন খেলোয়াড় পরিবর্তনের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
তার মতে, প্রতিপক্ষ দলগুলো বাংলাদেশের তুলনায় বেশি প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে কাবাডিতে আরও আধুনিক কোচিং প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
ফেডারেশনের অভ্যন্তরে কোচদের পছন্দ-অপছন্দ এবং কোচ আব্দুল জলিল ও বাদশার মধ্যে মতানৈক্য নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তুতি
এশিয়ান গেমসের জন্য কাবাডিতে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন করা হয়েছিল। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে দলটি অনুশীলন করেছে।
আগের কমিটি গেমসের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশে টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ হয়নি।
বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ সোহাগ জানিয়েছেন, দায়িত্বে থাকাকালে দলকে পেশাদারভাবে প্রস্তুত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার মতে, পদক জয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তিনি হতাশ।




















