একসাথে দুই চাকরি সরকারি কর্মকর্তা মোতালিবের!
- আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক শেখ মোহাম্মদ মোতালিবের বিরুদ্ধে। একই চুক্তিপত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শেখ মোতালিব এবং অপর পক্ষের প্রতিনিধি কবির হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর একই ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একটি জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করারও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, শেখ মোহাম্মদ মোতালিব ‘অর্গানাইজেশন ফর সোশ্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক্যাল ডেভেলপমেন্ট ইউটিলাইজিং দ্য কমিউনিটি রিসোর্স’ (ওসেক) নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সময়ে তিনি জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক-প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট পদে কর্মরত ছিলেন।
এ ছাড়া অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র প্রকল্পে তিনি উপপ্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে গুরুতর বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের স্বার্থে তাকে ওই অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
নথিতে দেখা যায়, ওসেক-এর পক্ষে শেখ মোহাম্মদ মোতালিব এবং বিনিময় সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে কবির হোসেনের মধ্যে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তিপত্রে উভয় পক্ষের প্রতিনিধির নাম, পদবি ও এনআইডি নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথির কপিতে দুই প্রতিনিধির এনআইডি নম্বর একই বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
একই এনআইডি নম্বর কীভাবে দুই ব্যক্তির নামে একই চুক্তিপত্রে ব্যবহৃত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সরকারি ডাটাবেসে উভয়ের পরিচয় পরীক্ষা এবং চুক্তিপত্রের মূল কপি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিনিময় সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড অটিজম ও এনডিডি সেবাদান কেন্দ্র প্রকল্পে জনবল সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য থেকে জানা গেছে। শেখ মোতালিব যখন ওই প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তখন একই জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৬ নম্বর বিধিতে কোনো ব্যাংক বা কোম্পানির promotion, registration বা management-এ সরকারি কর্মচারীর অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। একই বিধিমালার ১৭ নম্বর বিধিতে সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি দায়িত্বের বাইরে কোনো trade, employment বা work-এ যুক্ত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এ কারণে সরকারি চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় ওসেক-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে শেখ মোতালিবের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বিনিময় সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড কী প্রক্রিয়ায় অটিজম ও এনডিডি প্রকল্পে জনবল সরবরাহের কাজ পেয়েছে এবং ওই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি, কার্যাদেশ বা বিল অনুমোদনে শেখ মোতালিবের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, এনডিডি সুরক্ষা ট্রাস্ট, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
এদিকে সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মোতালিবের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মী হেনস্তা, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগের সরকারি তদন্ত চলছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, শেখ মোহাম্মদ মোতালিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে শুনানি চলছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শেখ মোহাম্মদ মোতালিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।





















