০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০৩ প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার, উড়ল মুক্ত আকাশে

আরিফ রেহমান, বগুড়া
  • আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বগুড়ায় পাচারের সময় খাঁচায় বন্দী ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাখিগুলোকে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া মহানগরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী ‘আল বাকারা ট্রাভেলস’ বাসে তল্লাশি চালিয়ে এসব প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাসে অভিযান

ডিবি পুলিশ জানায়, প্যারাকিট টিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয় ডিবির একটি দল।

পরে নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী ‘আল বাকারা ট্রাভেলস’ বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বাসের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে সাইড বক্সে রাখা কয়েকটি খাঁচার সন্ধান পান পুলিশ সদস্যরা।

সাইড বক্সে ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচা

পুলিশের তল্লাশিতে বাসের সাইড বক্স থেকে ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচা উদ্ধার করা হয়। খাঁচাগুলো ছিল ছোট আকারের। প্রতিটি খাঁচায় একাধিক পাখি রাখা হয়েছিল।

খাঁচাগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক প্যারাকিট টিয়া। সবগুলো খাঁচা থেকে মোট ১০৩টি পাখি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পাখিগুলোকে গাদাগাদি করে খাঁচায় রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় এভাবে পরিবহন করা হলে পাখিগুলোর অসুস্থ হয়ে পড়া বা মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, পাখিগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো কোনো ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

বন্যপ্রাণী আইনে বাণিজ্য নিষিদ্ধ

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্যারাকিট টিয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের আওতাভুক্ত। এ ধরনের পাখি ধরে বিক্রি করা বা বাণিজ্যিকভাবে লেনদেন করা নিষিদ্ধ।

তাই উদ্ধার করা পাখিগুলোকে নিরাপদে রাখার উদ্যোগ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পাখিগুলোকে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খাঁচা খুলতেই মুক্ত আকাশে ১০৩ টিয়া

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অবমুক্তির কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ।

খাঁচাগুলো একে একে খুলে দেওয়া হয়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে পাখিগুলো ডানা মেলে উড়তে শুরু করে। কিছু টিয়া দ্রুত আকাশের দিকে উড়ে যায়। আবার কয়েকটি কাছাকাছি জায়গায় গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে। পরে সেগুলোও উড়ে যায় মুক্ত আকাশে।

এভাবে একে একে ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া খাঁচার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়। ফিরে পায় স্বাভাবিক পরিবেশে বেঁচে থাকার সুযোগ।

এক রাতের অভিযানে পাচারের আগেই পাখিগুলো উদ্ধার করায় স্বস্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ধরে বিক্রি বা পাচারের মতো কর্মকাণ্ড পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

১০৩ প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার, উড়ল মুক্ত আকাশে

আপডেট সময় : ০৪:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় পাচারের সময় খাঁচায় বন্দী ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পাখিগুলোকে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়া মহানগরের ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী ‘আল বাকারা ট্রাভেলস’ বাসে তল্লাশি চালিয়ে এসব প্যারাকিট টিয়া উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাসে অভিযান

ডিবি পুলিশ জানায়, প্যারাকিট টিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নেয় ডিবির একটি দল।

পরে নওগাঁ থেকে ঢাকাগামী ‘আল বাকারা ট্রাভেলস’ বাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বাসের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে সাইড বক্সে রাখা কয়েকটি খাঁচার সন্ধান পান পুলিশ সদস্যরা।

সাইড বক্সে ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচা

পুলিশের তল্লাশিতে বাসের সাইড বক্স থেকে ১০টি প্লাস্টিকের খাঁচা উদ্ধার করা হয়। খাঁচাগুলো ছিল ছোট আকারের। প্রতিটি খাঁচায় একাধিক পাখি রাখা হয়েছিল।

খাঁচাগুলো খুলতেই বেরিয়ে আসে একের পর এক প্যারাকিট টিয়া। সবগুলো খাঁচা থেকে মোট ১০৩টি পাখি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পাখিগুলোকে গাদাগাদি করে খাঁচায় রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় এভাবে পরিবহন করা হলে পাখিগুলোর অসুস্থ হয়ে পড়া বা মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, পাখিগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে উদ্ধার হওয়া পাখিগুলো কোনো ব্যবসায়ীর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

বন্যপ্রাণী আইনে বাণিজ্য নিষিদ্ধ

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্যারাকিট টিয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের আওতাভুক্ত। এ ধরনের পাখি ধরে বিক্রি করা বা বাণিজ্যিকভাবে লেনদেন করা নিষিদ্ধ।

তাই উদ্ধার করা পাখিগুলোকে নিরাপদে রাখার উদ্যোগ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পাখিগুলোকে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

খাঁচা খুলতেই মুক্ত আকাশে ১০৩ টিয়া

বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে পাখিগুলো অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অবমুক্তির কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ।

খাঁচাগুলো একে একে খুলে দেওয়া হয়। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে পাখিগুলো ডানা মেলে উড়তে শুরু করে। কিছু টিয়া দ্রুত আকাশের দিকে উড়ে যায়। আবার কয়েকটি কাছাকাছি জায়গায় গিয়ে কিছুক্ষণ অবস্থান করে। পরে সেগুলোও উড়ে যায় মুক্ত আকাশে।

এভাবে একে একে ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া খাঁচার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়। ফিরে পায় স্বাভাবিক পরিবেশে বেঁচে থাকার সুযোগ।

এক রাতের অভিযানে পাচারের আগেই পাখিগুলো উদ্ধার করায় স্বস্তি প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন্যপ্রাণী ধরে বিক্রি বা পাচারের মতো কর্মকাণ্ড পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।