সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ২০০৯ সালে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড ঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিতে অনুমোদন দেন। তবে সরাসরি সম্প্রচারের বিস্তারিত ব্যবস্থা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
৩ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় বেলা ১টায় ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০০৯ সালে যে ঘাঁটিতে তিনি হামলা চালিয়েছিলেন, সেখানেই এ দণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হামলার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন হেগসেথ।
‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’ নামের একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সাধারণ মানুষ দেখতে পারবেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে জানানো প্রয়োজন।
ফোর্ট হুডে হামলায় নিহত হন ১৩ জন
নিদাল মালিক হাসান মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ও মনোরোগ চিকিৎসক। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে তিনি গুলি চালান।
ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সক্রিয় সেনাসদস্য এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন।
হামলার পর হাসান দাবি করেন, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিশোধ নিতে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। তবে তার এ বক্তব্য হামলার দায় থেকে তাকে রক্ষা করতে পারেনি।
২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আদালত তাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে বন্দি রয়েছেন।
দীর্ঘ বিরতির পর সামরিক মৃত্যুদণ্ড
হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে এটি হবে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল ১৯৪৫ সালে।
ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিচারব্যবস্থায় আবারও এ পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে বিতর্ক
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে, এ ধরনের শাস্তি জনসমক্ষে প্রদর্শনের নৈতিকতা, আইনি সীমাবদ্ধতা এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
পেন্টাগনের কর্মকর্তা সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিশ্চিত করলেও কীভাবে, কোন মাধ্যমে এবং কারা এ সম্প্রচার দেখতে পারবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড।




















