সাজেকে চলছে অষ্টম দিনের অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে টানা অষ্টম দিনের মতো অবরোধ কর্মসূচি চলছে। প্রধান দাবি পূরণে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ অব্যাহত রেখেছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালান অবরোধকারীরা। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ শুরু হয়। এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।
পাঁচ দফা দাবিতে অবরোধ
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা। পাশাপাশি উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ, সাজেক এলাকা থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রয়েছে।
আন্দোলনকারীরা আরও দাবি জানিয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
চার দাবিতে সমঝোতা, মূল দাবি নিয়ে অনিশ্চয়তা
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ৩টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
তবে আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি—সাজেক এলাকা থেকে জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়েও কোনো সমাধান আসেনি।
সোমবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, সরকার তাদের প্রধান দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেনি।
তিনি জানান, দাবি পূরণে সরকার প্রথমে এক মাস সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা তিন দিন সময় দিতে রাজি ছিলেন। পরে সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলে আন্দোলনকারীরা আরও পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে সম্মত হন। তবে প্রধান দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চিত আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকার আবার আলোচনায় বসতে চাইলে আন্দোলনকারীরা তাতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
অবরোধ ঘিরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা
গত ২২ অক্টোবর সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ পর্যটকদের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে নিয়ে রওনা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বহর সাজেকের উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড দেন এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথ আটকে দেন। দীর্ঘ সময় আলোচনা করেও অবরোধকারীদের সড়ক ছেড়ে দিতে রাজি করানো যায়নি। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখেছিল সংগঠন দুটি। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।
বর্তমানে প্রধান দাবি নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় সাজেক সড়কে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। আলোচনা ও দাবি পূরণের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করছে।





















