১২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

লড়াই শেষে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২
  • / ১৫৩৯ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

থেমে গেল দীর্ঘ  দিনের যুদ্ধ। রবিবার দুপুর ১২.৫৯-এ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। মাত্র ২৪ বছরেই থেমে গেল তাঁর পথ চলা। রেখে গেলেন মা- বাবা, দিদি ও প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরীকে । আচমকাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। অস্ত্রোপচারও করা হয়। তার পর এক সপ্তাহে একাধিক বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাঁর। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ লড়াই চালালেও শেষ রক্ষা হল না। ডাক্তারদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে অকালেই থেমে গেল তাঁর পথ চলা।

টলিপাড়া আজ স্তব্ধ। কান্নায় ভেঙে পড়েছে অভিনেত্রীর পরিবার। ভক্তদের মনেও কালো মেঘ। অভিনেত্রীর ভালবাসার মানুষেরাও আজ শব্দ হারিয়েছেন। বহু যুদ্ধে জয়ী হয়েও ফিরে এল না মেয়েটা।

দু’দিন আগে সব্যসাচীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আশার আলো দেখিয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘মিরাকেল হয়! ঐন্দ্রিলা আছে, থাকবে।’ সেই খবর শুনে সকলেই অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন।

কয়েকদিন আগে এক রাতে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ২৪ বছরের অভিনেত্রী তখন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। শরীরের ডান দিক প্রায় অসাড় হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার আগে আগে বারবার বমি করছিলেন বলেও জানা যায়। retroperitoneal ewing sarcoma-এ আক্রান্ত তিনি আগে থেকেই। ডান দিকে ফুসফুসে একটি ১৯ সেন্টিমিটারের টিউমার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। পরীক্ষা করে জানা যায়, ইন্ট্রাক্র্যানিয়াল হ্যামারেজে আক্রান্ত তিনি।

লড়াইটা শুরু হয়েছিল ২০১৫-এ। ঐন্দ্রিলা তখন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ওই কাঁচা বয়সেই শরীরে থাবা বসায় মারণ রোগ ‘ক্যান্সার’। হার মানেননি অভিনেত্রী।

২০২১-এ টলিউডে ফের পা রাখলেন ঐন্দ্রিলা। কাজ শুরু করলেন ধারাবাহিকে। কিন্তু ফের শরীর বেঁকে বসল। ফের অসুস্থ হয়ে পড়লেন অভিনেত্রী।

আর তখনই ঐন্দ্রিলার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন সব্যসাচী চৌধুরী। দিদি নম্বর ওয়ানের শো-তে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রী জানান, “আমার তখন দ্বিতীয় দিনের কেমো চলছিল। চোখ বন্ধ করেছিলাম। চোখ খুলে দেখি ও আমার সামনে দাঁড়িয়ে।”

সব্যসাচীই যেন ছিলেন তাঁর শক্তি ও সাহসের উৎস। অভিনেত্রীর স্বীকারোক্তি, “আমার চিকিৎসা চলাকালীন এত শারীরিক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু মানসিক কষ্ট এক ফোঁটাও ছিল না।”

ছোট পর্দায় দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন ঐন্দ্রিলা। অভিনয় করেছেন একাধিক ধারাবাহিকে। ‘কালার্স বাংলা’ চ্যানেলের ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকটির কথা মনে আছে তো ? বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল এই মেগা সিরিয়াল ৷ আর এই সিরিয়ালের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই অভিনয় জীবনে পথ চলা শুরু করেছিলেন বহরমপুরের মেয়ে ঐন্দ্রিলা শর্মা ৷

এরপর কাজ করেছেন মাল্টিস্টারার সিরিয়াল ‘জীবন জ্যোতি’তেও ৷ এর পর ছোটপর্দার ছবি ‘মিত্তির পাড়ার মারাদোনা’তে অভিনয়৷ জি বাংলা অরিজিনালসের ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে দেখা গিয়েছিল। এখন সবই নেটমাধ্যমের সৌজন্যে চোখের সামনে রয়ে যাবে, তবে সবকিছু ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বছর ২৪-এর ঐন্দ্রিলা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লড়াই শেষে চলে গেলেন ঐন্দ্রিলা

আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২

থেমে গেল দীর্ঘ  দিনের যুদ্ধ। রবিবার দুপুর ১২.৫৯-এ শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। মাত্র ২৪ বছরেই থেমে গেল তাঁর পথ চলা। রেখে গেলেন মা- বাবা, দিদি ও প্রেমিক সব্যসাচী চৌধুরীকে । আচমকাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। অস্ত্রোপচারও করা হয়। তার পর এক সপ্তাহে একাধিক বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাঁর। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ লড়াই চালালেও শেষ রক্ষা হল না। ডাক্তারদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে অকালেই থেমে গেল তাঁর পথ চলা।

টলিপাড়া আজ স্তব্ধ। কান্নায় ভেঙে পড়েছে অভিনেত্রীর পরিবার। ভক্তদের মনেও কালো মেঘ। অভিনেত্রীর ভালবাসার মানুষেরাও আজ শব্দ হারিয়েছেন। বহু যুদ্ধে জয়ী হয়েও ফিরে এল না মেয়েটা।

দু’দিন আগে সব্যসাচীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট আশার আলো দেখিয়েছিল। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘মিরাকেল হয়! ঐন্দ্রিলা আছে, থাকবে।’ সেই খবর শুনে সকলেই অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন।

কয়েকদিন আগে এক রাতে শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ২৪ বছরের অভিনেত্রী তখন সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন। শরীরের ডান দিক প্রায় অসাড় হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার আগে আগে বারবার বমি করছিলেন বলেও জানা যায়। retroperitoneal ewing sarcoma-এ আক্রান্ত তিনি আগে থেকেই। ডান দিকে ফুসফুসে একটি ১৯ সেন্টিমিটারের টিউমার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। পরীক্ষা করে জানা যায়, ইন্ট্রাক্র্যানিয়াল হ্যামারেজে আক্রান্ত তিনি।

লড়াইটা শুরু হয়েছিল ২০১৫-এ। ঐন্দ্রিলা তখন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ওই কাঁচা বয়সেই শরীরে থাবা বসায় মারণ রোগ ‘ক্যান্সার’। হার মানেননি অভিনেত্রী।

২০২১-এ টলিউডে ফের পা রাখলেন ঐন্দ্রিলা। কাজ শুরু করলেন ধারাবাহিকে। কিন্তু ফের শরীর বেঁকে বসল। ফের অসুস্থ হয়ে পড়লেন অভিনেত্রী।

আর তখনই ঐন্দ্রিলার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন সব্যসাচী চৌধুরী। দিদি নম্বর ওয়ানের শো-তে দাঁড়িয়ে অভিনেত্রী জানান, “আমার তখন দ্বিতীয় দিনের কেমো চলছিল। চোখ বন্ধ করেছিলাম। চোখ খুলে দেখি ও আমার সামনে দাঁড়িয়ে।”

সব্যসাচীই যেন ছিলেন তাঁর শক্তি ও সাহসের উৎস। অভিনেত্রীর স্বীকারোক্তি, “আমার চিকিৎসা চলাকালীন এত শারীরিক কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু মানসিক কষ্ট এক ফোঁটাও ছিল না।”

ছোট পর্দায় দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন ঐন্দ্রিলা। অভিনয় করেছেন একাধিক ধারাবাহিকে। ‘কালার্স বাংলা’ চ্যানেলের ‘ঝুমুর’ ধারাবাহিকটির কথা মনে আছে তো ? বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল এই মেগা সিরিয়াল ৷ আর এই সিরিয়ালের প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমেই অভিনয় জীবনে পথ চলা শুরু করেছিলেন বহরমপুরের মেয়ে ঐন্দ্রিলা শর্মা ৷

এরপর কাজ করেছেন মাল্টিস্টারার সিরিয়াল ‘জীবন জ্যোতি’তেও ৷ এর পর ছোটপর্দার ছবি ‘মিত্তির পাড়ার মারাদোনা’তে অভিনয়৷ জি বাংলা অরিজিনালসের ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে দেখা গিয়েছিল। এখন সবই নেটমাধ্যমের সৌজন্যে চোখের সামনে রয়ে যাবে, তবে সবকিছু ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বছর ২৪-এর ঐন্দ্রিলা।