রাশিয়ায় হামলা বন্ধ না করলে সহায়তা বন্ধের হুঁশিয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের
- আপডেট সময় : ০৫:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭৪ বার পড়া হয়েছে
রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলা বন্ধ না হলে দেশটির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান স্থগিত এবং ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর মার্কিন অস্ত্র কেনার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউরোপের দুই কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও পেন্টাগন ইউক্রেন এবং ইউরোপের কর্মকর্তাদের কাছে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। এ সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকেও ইউক্রেনের সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়।
ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন
রাশিয়ার তেল শোধনাগারসহ জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে কিয়েভের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অস্ত্র সরবরাহসংক্রান্ত ব্যবস্থায় পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র কেনার কার্যক্রম বন্ধের হুমকির খবর প্রথম প্রকাশ করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। এ বিষয়ে জানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর, পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য ও অস্ত্র কেনার সহযোগিতা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এ ধরনের হুমকি কিয়েভ এবং দেশটির ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য একটি দুঃখজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব তথ্যের সাহায্যে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ, হামলার সম্ভাব্য গতিপথ এবং আঘাত হানার সময় সম্পর্কে আগাম ধারণা পায় ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
ফলে ওয়াশিংটন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর মার্কিন অস্ত্র কেনার কার্যক্রম স্থগিত হলে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘প্রায়োরিটাইজড ইউক্রেন রিকোয়ারমেন্টস লিস্ট’ বা পিইউআরএল কর্মসূচির আওতায় ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ায় ইউক্রেন ইতিমধ্যে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটে রয়েছে।
তবে সপ্তাহান্তে পিইউআরএল কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তনের খবর ন্যাটো পায়নি বলে জানিয়েছেন আরেক ইউরোপীয় কর্মকর্তা।
‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ নিয়ে নতুন আলোচনা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বাড়ছে বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন ট্রাম্প। তিনি উভয় পক্ষকে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবেও ডিজেলের দাম বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তাঁর ভাষায়, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ সম্মত হয়েছে। তবে জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই ঘোষণায় তারা বিস্মিত হয়েছে।
ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জেলেনস্কি লেখেন, ইউক্রেন এ যুদ্ধবিরতিকে সমর্থন করে। তবে রাশিয়ারও এটি সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ।
ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন
ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে আগে থেকেই নাজুক সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বৈঠকের পর ইউক্রেনের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে সৌদি আরবে আলোচনার পর মার্কিন প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে ইউক্রেন সম্মতি জানালে ওয়াশিংটন আবার গোয়েন্দা সহযোগিতা চালু করে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে রাশিয়ার ডিজেল বাজারে সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি নিয়েও ট্রাম্পের অবস্থান আলোচনায় এসেছে। ইউক্রেনের তেল শোধনাগারে অব্যাহত হামলার কারণে ট্রাম্প ওই চুক্তিতে আগ্রহী হয়েছেন বলে এর আগে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছিলেন।
এ ছাড়া শনিবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেনের নতুন নেতা নির্বাচন করা উচিত এবং জেলেনস্কিকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
























