০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে ৭ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। বুধবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, এখন থেকে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত এসব মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে না।

আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং সম্ভাব্য শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একাধিক বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠান, একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স কোম্পানিসহ মোট সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর আগে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ড্রোন, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রপ্তানির ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীন থেকে নতুন ধরনের মানবাকৃতি (হিউম্যানয়েড) রোবট এবং চার পায়ের রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। চীনের দাবি, এসব পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই একটি অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানির নিয়ম আরও কঠোর করেছে। পাশাপাশি, সরকারি ব্যবহারের মার্কিন বা বিদেশি সফটওয়্যারযুক্ত যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং উৎপাদন ও ট্র্যাকিং-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কিছু যৌথ পরিদর্শন কার্যক্রমও স্থগিত করেছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক পদক্ষেপের জবাবে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বেইজিংয়ের আর কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এসব পদক্ষেপ প্রত্যাহার করে দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে বেইজিং আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে কয়েকটি চীনা শিপিং অপারেটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি দুটি শীর্ষ বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পেন্টাগনের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান শুল্ক, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ এখন একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে, যেখানে উভয় দেশই নিজেদের কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখতে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে ৭ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ০১:২৩:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। বুধবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়ে জানায়, এখন থেকে চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত এসব মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে পারবে না।

আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং সম্ভাব্য শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একাধিক বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় একটি বায়োটেক প্রতিষ্ঠান, একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স কোম্পানিসহ মোট সাতটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এর আগে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগে ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ড্রোন, সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি রপ্তানির ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ওয়াশিংটন।

এ ছাড়া মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীন থেকে নতুন ধরনের মানবাকৃতি (হিউম্যানয়েড) রোবট এবং চার পায়ের রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। চীনের দাবি, এসব পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই একটি অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানির নিয়ম আরও কঠোর করেছে। পাশাপাশি, সরকারি ব্যবহারের মার্কিন বা বিদেশি সফটওয়্যারযুক্ত যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং উৎপাদন ও ট্র্যাকিং-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কিছু যৌথ পরিদর্শন কার্যক্রমও স্থগিত করেছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক পদক্ষেপের জবাবে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বেইজিংয়ের আর কোনো বিকল্প ছিল না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এসব পদক্ষেপ প্রত্যাহার করে দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে বেইজিং আরও কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে কয়েকটি চীনা শিপিং অপারেটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। পাশাপাশি দুটি শীর্ষ বেসামরিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে পেন্টাগনের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান শুল্ক, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ এখন একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে, যেখানে উভয় দেশই নিজেদের কৌশলগত প্রভাব ধরে রাখতে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।