ফেনীতে কলেজছাত্রীকে হয়রানির প্রতিবাদ, গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় : ০৩:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
ফেনীর সোনাগাজীতে এক কলেজছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় তাঁর বাবার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজন হলেন রফিকুল ইসলাম কামাল (৪২) ও তাঁর ছেলে মো. সাহী (২০)।
সোমবার (২ নভেম্বর) পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে।
পুলিশ, ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বখতারমুন্সি শেখ শহীদুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী কলেজে যাওয়া-আসার পথে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম কামালের ছেলে মো. সাহী তাঁকে অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার সাহীর পরিবারের সদস্যদের জানায়। তবে এতে সাহী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। লোকলজ্জা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রথমদিকে পরিবারটি আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।
কলেজছাত্রীকে জঙ্গলে নেওয়ার চেষ্টা
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে কলেজ ছুটির পর ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সৈয়দপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ির দীঘির পাড়ে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা সাহী পেছন থেকে তাঁকে ঝাপটে ধরেন। একপর্যায়ে মুখ চেপে ধরে দীঘির পাড়ের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাঁরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর ছাত্রীর পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দাবি করে। কিন্তু এতে সাহী ও তাঁর বাবা কামাল ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জমিতে পানি সেচের সময় বাবার ওপর হামলা
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন ২২ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ছাত্রীর বাবা আমিনুল হক নিজের জমিতে পানি সেচ দিচ্ছিলেন। এ সময় সাহী ও তাঁর বাবা কামাল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন আহত আমিনুল হককে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসা নেন।
চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শের কারণে মামলা করতে কিছুটা সময় লাগে। পরে আমিনুল হক বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলায় গ্রেপ্তার বাবা-ছেলে
মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম কামাল ও তাঁর ছেলে মো. সাহীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





















